বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর সাথে বৈঠক করেছেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোসি উইন্টারটন।
আজ বুধবার ( ৮ এপ্রিল ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস এবং ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য এবং সরকার এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) নিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সাথেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ জোরদার করবে। এসময় যুক্তরাজ্যের Developing Countries Trading Scheme (DCTS)-এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আহবান জানান মন্ত্রী।
যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত রোসি উইন্টারটন বলেন , বাংলাদেশের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের উদ্যোগের প্রশংসার দাবী রাখে।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে বিদ্যমান সুবিধা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সামুদ্রিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে UK Export Finance এর আওতায় প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের রপ্তানি ঋণ সুবিধা ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করা হয়। এই সুবিধার মাধ্যমে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডায়ালগ পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে সম্মত হন এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব ( রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

