ভুয়া ডাক্তার থেকে ‘ব্ল্যাকমেলার’ মেহেরাজ; মাদক ও পর্নোগ্রাফি সিন্ডিকেটের ভয়ংকর রূপ!

 

মো সালমান রহমান।।

মাগুরার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কথিত ‘ডাঃ এস.এম নিয়ামুল হাসান’ ওরফে মেহেরাজ হোসেন ফাহিম কেবল একজন ভুয়া ডাক্তারই নন, বরং এক ভয়ংকর অপরাধী চক্রের মূল হোতা। পরিচয় জালিয়াতি, খুনের স্বীকারোক্তি, মাদক খাইয়ে নারী নিগ্রহ এবং পর্নোগ্রাফি দিয়ে ব্ল্যাকমেলিং—এমন কোনো অপরাধ নেই যা এই কথিত ‘নেতা’ ফাহিম করেননি।

পরিচয়ের আড়ালে নীল নকশা ও বিয়ে:
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর শেখেরটেক ১ নম্বর রোডের মোহনা নামে এক নারীর মাধ্যমে ফাহিমের পরিচয় হয় এক ভুক্তভোগী নারীর সাথে। পরিচয়ের ৫-৬ মাসের মাথায় বিভিন্ন কৌশলে ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন ফাহিম। বিয়ের পরপরই শুরু হয় তার আসল তাণ্ডব। ওই নারীকে বিভিন্ন ‘অজানা ওষুধ’ খাইয়ে মানসিকভাবে অস্বাভাবিক (Abnormal) করে তোলেন তিনি। সেই সুযোগে ওই নারীকে নিয়ে মাদক সেবন করেন এবং গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

অপচিকিৎসা ও ডিভোর্সের পর ব্ল্যাকমেলিং:
সুস্থ-স্বাভাবিক ওই নারীর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যেতে দেখে তার পরিবার অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। চিকিৎসক জানান, ফাহিম ওই নারীকে যে ওষুধগুলো খাওয়াচ্ছিলেন তা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই সত্য জানার পর ওই নারী ফাহিমকে ডিভোর্স দিলে শুরু হয় ভয়ংকর ব্ল্যাকমেলিং। গোপনে ধারণ করা মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন ফাহিম। সম্প্রতি টাকা দেওয়া বন্ধ করলে তিনি এক অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ওই নারীর সম্মান ধূলিসাৎ করার চেষ্টা করেন।

খুনের স্বীকারোক্তি ও বিকাশ নম্বরে মাদক ব্যবসা:
কেবল জালিয়াতিই নয়, এই প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে ফাহিমকে সরাসরি একটি খুনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে শোনা গেছে, সেখানে সাক্ষী হিসেবে এলাকার ক্যাবল ব্যাবসায়ী শামীম মন্ডল এর নাম বলতে শোনা যায়। এছাড়া আরও একটি চাঞ্চল্যকর স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ফাহিম সরাসরি মাদক বিক্রির কথা বলছেন এবং লেনদেনের জন্য নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরটি দিচ্ছেন। ডিজিটাল এই প্রমাণটি নিশ্চিত করে যে, তিনি পর্দার আড়ালে একজন সক্রিয় মাদক কারবারি।

প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় ও রাজনৈতিক দাপট:
বর্তমানে ফাহিম নিজেকে ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ এবং আদাবর ৩০ নং ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন।

প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কাম্য:
বিএমডিসি (BMDC) আইন লঙ্ঘন, খুনের স্বীকারোক্তি, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগে মেহেরাজ হোসেন ফাহিম ও তার সহযোগী মোহনার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি-র সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে এই ভয়ংকর ‘সাইকোপ্যাথ’ অপরাধী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। এবং এই সংবাদ এর সকল অভিযোগ এর প্রমাণ রয়েছে গণমাধ্যমের কাছে।

চলবে …… 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles