সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানী (এসএমসি) কর্তৃক আয়োজিত দেশব্যাপী দুইদিনের “গর্ভকালীন পুষ্টি ক্যাম্পেইন” কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে। এই ক্যাম্পেইন উপলক্ষে মাধবপাশা ইউনিয়নের শিকদার বাড়ির প্রাঙ্গনে গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এসএমসি এবং এসএমসি ইএল-এর চেয়ারম্যান জনাব ফারুক আহমেদ; এসএমসি এবং এসএমসি ইএল-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক জনাব সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী এবং ডাঃ জহির উদ্দিন আহমেদ; এসএমসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব তছলিম উদ্দিন খান; এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (এসএমসি ইএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সায়েফ নাসির ।
এসএমসি’র প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় সহ মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিগণ এসময় মা সমাবেশে আগত গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে ১৫টি ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এসএমসি’র মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট ‘ফুলকেয়ার’ বিতরণ করেন । এই কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে এসএমসি’র প্রায় বাইশ হাজার ব্লু-স্টার, গ্রীন স্টার এবং গোল্ড স্টার সেবাদানকারী, ফিল্ড টিম এবং নেটওয়ার্ক বহির্ভূত সেবাদানকারীগণ গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন সেবা, পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি ‘ফুলকেয়ার’ বিতরণ করেন । এছাড়াও ১৬১টি উপজেলায় এসএমসি’র কমিউনিটি মোবিলাইজেশন কর্মসূচির মাধ্যমে গর্ভকালীন সেবা ও নিয়মিত সেবা গ্রহণের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনাব ফারুক আহমেদ বলেন, একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হয় একজন সুস্থ মায়ের মাধ্যমে। তাই মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টিতে বিনিয়োগ শুধু একজন মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করে না, বরং আগামী দিনের একটি সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” জনাব সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো গর্ভবতী মায়েদেরকে প্রসবপূর্ব সেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং সঠিক পুষ্টি স¤পর্কে সচেতন করা। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা চাই প্রতিটি গর্ভবতী মা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও পুষ্টির সুযোগ পান। ডাঃ জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন ”মাতৃপুষ্টির ঘাটতি মোকাবেলায় আমাদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের জন্য মানসম্মত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং তা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে।”
জনাব তছলিম উদ্দিন খান বলেন ”সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪,০০০ মা মৃত্যুবরণ করেন যেটি অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য। বিগত বছরগুলোতে গর্ভকালীন ৪ বার
এএনসি সেবা গ্রহণের হার ৪৭% থেকে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৪১%-এ নেমে এসেছে। আমরা গর্ভকালীন পুষ্টি নিশ্চত করতে প্রসবপূর্ব সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি।”
জনাব সায়েফ নাসির বলেন, আমাদের শক্তিশালী বিতরণ নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফার্মেসি ও সেবাকেন্দ্রে এই পুষ্টি পণ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছি।”
এসএমসি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এসএমসি ভবিষ্যতেও গর্ভকালীন পরিচর্যার সঙ্গে সঠিক পুষ্টির সমন্বয়, নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবা প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

