অর্থ পাচার ৩১০ কোটি: ই-ভ্যালির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি 

 

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ই-ভ্যালি ডটকম লিমিটেডের গ্রাহক ও মার্চেন্টদের ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাৎ এবং সেই অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর কাফরুল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এই মামলাটি রুজু করা হয়।

​দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সিআইডির প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অসংখ্য সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে লোভনীয় প্রস্তাবের আড়ালে পণ্যের অগ্রিম মূল্য সংগ্রহ করে এই দম্পতি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করে তারা অভিনব পন্থায় গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মার্চেন্টের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য বাকিতে সংগ্রহ করে তার আর্থিক পাওনা পরিশোধ করতেও তারা ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে এই আত্মসাৎ করা শত শত কোটি টাকা অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যক্তিগত ভোগবিলাস, দামি গাড়ি কেনা, দেশ-বিদেশে ভ্রমণ এবং বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের পেছনে ব্যয় করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

​মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (২০১৫ সালের সংশোধনীসহ) এর ৪(২) ও (৪) ধারায় দায়ের করা এই মামলার নম্বর ১১। এজাহারে প্রধান অভিযুক্ত ৪৩ বছর বয়সী মো. রাসেলের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ঢাকার সাভার এলাকার বনগাঁওয়ের নগর কোন্ডা-১২১৬ এর কান্দি বলিয়ারপুর উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি আলে আহম্মদ ও জাহানারা বেগমের সন্তান। অন্যদিকে, তার ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী শামীমা নাসরিনের পিতার নাম রফিকুল ইসলাম ও মাতা ফরিদা তালুকদার। ই-ভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যও মামলার এজাহারে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ২০১৮ সালের ১৪ মে তারিখে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটির (নিবন্ধন নম্বর- সি-১৪৪৮৬৮, টিআইএন- ৩৩৩১৩৬৮৬৭৮৩৭) পূর্ববর্তী ঠিকানা ছিল মিরপুরের পূর্ব কাজীপাড়ার ৩০৩/ডি নম্বর বাড়ি এবং বর্তমানে এটি ধানমন্ডির ১৪ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির প্রথম তলায় অবস্থিত। এই দুই মূল হোতার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে মামলার আর্জিতে সহযোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

​অনলাইন কেনাকাটার নামে দেশজুড়ে হাজার হাজার গ্রাহক এবং শত শত সরবরাহকারী এই বিশাল আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বর্তমানে সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করা বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য নেপথ্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles