ফেনীতে অটো ছিনতাইয়ের বলি ১৫ বছরের শান্ত

 

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর নিহতের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রবিবার (৮ মার্চ,)  সন্ধ্যায় ঘটা ওই ঘটনাটি মূলত ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী থেকে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​নিহত কিশোরের নাম শান্ত কুমার সাহা। গত রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ফেনী মডেল থানাধীন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের লালপোল স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের বিপরীত দিকের মহাসড়কে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-প-১৩-০৪৭৪ নম্বরের একটি ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে শান্তর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় নিহতের বাবা কানু কুমার সাহা (৪৭) পরেরদিন সোমবার ফেনী সদর মডেল থানায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় একটি মামলা (নম্বর-২৬) দায়ের করেন।

​তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনার ভিন্ন চিত্র বেরিয়ে আসে।

জানা যায়, দুর্ঘটনার আগেই ওই কিশোরের অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনটি ছিনতাই করা হয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ফেনী জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) রেজোয়ানের নেতৃত্বে এবং সাইবার সেলের সহায়তায় একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। সদর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অনুপসহ তারা চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন আল-আমীন হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে সোহাগকে এবং পরে নাসিরকে আটক করে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রির ৫ হাজার টাকা এবং ভুক্তভোগী কিশোরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

​পরবর্তীতে, আটক সোহাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কড়ইতলা থেকে ইমাম উদ্দিন ইমন নামের অপর এক সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী সেখানকার আনোয়ারের গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটির বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
​তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক নাসির ও ইমাম উদ্দিন নোয়াখালীর চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে নাসির ও সোহাগ চট্টগ্রামে একই সঙ্গে বসবাস করেন। তারা মূলত একটি অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য।

পুলিশের দাবি, নাসিরের নির্দেশনায় সোহাগ ফেনীতে এসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শান্তর রিকশা ও ফোন ছিনতাই করে। পরে ইমাম উদ্দিন সেটি নোয়াখালীর ওই গ্যারেজে নিয়ে যায় এবং আনোয়ার ও তার এক সহযোগীর সাহায্যে রিকশাটির যন্ত্রাংশ আলাদা করে ফেলে।

​পুলিশ নিশ্চিত করেছে, আটক নাসির ও সোহাগের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবার এজাহারের ভিত্তিতে ১০ মার্চ মঙ্গলবার ফেনী মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় নতুন একটি মামলা (নম্বর-২৮) রুজু করা হয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles