ময়মনসিংহে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ নিয়ে মালিকানা হস্তান্তরে প্রতারণার অভিযোগ আবু বকর রানার

 

ময়মনসিংহ তিল তিল করে গড়ে তোলা নিজের প্রিয় সংবাদপত্রের মালিকানা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের হাতে চলে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের জুবিলি রোড থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটিকে ঘিরে এই বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনাটি এখন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুধীসমাজের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে। পত্রিকাটির মূল উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু বকর রানা অভিযোগ করেছেন, তার বিশ্বস্ত সহযোগী মাহমুদুল হাসান রতন তাকে অন্ধকারে রেখে অবৈধভাবে পত্রিকাটির মালিকানা হস্তান্তর করেছেন। আবু বকর রানা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বড়রুহী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রতনও একই এলাকার বাসিন্দা এবং রানার ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আবু বকর রানা জানান, তার কঠোর পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে তিনি বিশ্বাস করে তার ছোট ভাই সমতুল্য মাহমুদুল হাসান রতনের নামে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন সম্পন্ন করেন। ময়মনসিংহ শহরের জুবিলি রোডের নিজস্ব কার্যালয় থেকে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হতো। তবে করোনা মহামারীর সময় আর্থিক সংকটে পড়ে পত্রিকাটির প্রকাশনা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময় প্রকাশনা বন্ধ থাকার সুযোগে রতন অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কৌশলে সরিয়ে নেন। সম্প্রতি পত্রিকাটি পুনরায় চালু হলে রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে জানতে পারেন যে, পত্রিকাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে খায়রুল আলম রফিক এবং সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে ইয়াসমিন শিলার নাম দেখা যাচ্ছে।

আবু বকর রানা প্রিন্টার্স লাইনে নাম দেখে খায়রুল আলম রফিকের সাথে যোগাযোগ করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রফিক রানাকে জানান, তিনি আকিজ গ্রুপের মাধ্যমে ১১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাহমুদুল হাসান রতনের কাছ থেকে পত্রিকাটির মালিকানা ক্রয় করেছেন। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রতনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন পত্রিকাটি কেবল ‘ভাড়া’ দেওয়া হয়েছে। তবে তথ্যের অমিল ধরা পড়লে একপর্যায়ে রতন মালিকানা বিক্রির কথা স্বীকার করেন এবং নিজের ভুল মেনে নিয়ে বিক্রির টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন পার হলেও রতন কোনো টাকা ফেরত দেননি এবং বর্তমানে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। আদালতের রুল ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্প্রতি জনৈক শহিদুল ইসলামের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছে। এই রুল জারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবু বকর রানা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহমুদুল হাসান রতনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রতন যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, পত্রিকাটি তিনি ইয়াসমিন শিলা নামে তার এক ‘বোনকে’ দিয়ে দিয়েছেন। পত্রিকা কি এভাবে কাউকে ‘দান’ বা ‘দিয়ে দেওয়ার’ মতো বস্তু কি না- এমন প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

ভুক্তভোগী আবু বকর রানা এখন তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকৃত অর্থের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles