ডেস্ক রিপোর্ট।।
ময়মনসিংহ কোতয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন মামলার বাদী মনির চৌধুরী। কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ২৬।
গত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর ময়মনসিংহ সদরের চক্ষু হাসপাতাল রোডের সেহড়া ধোপাখলা ডক্টর প্লেসের মৃত ইমরান চৌধুরীর পুত্র মনির চৌধুরী বাদী হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখ করে ও তিন চারজনকে অজ্ঞাত আসাম করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৩ নং ফাঁড়িতে কর্মরত এস আই সোহেল রানাকে। পরবর্তীতে অজ্ঞাত আসামীদের নাম ঠিকানা জেনে ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ৬ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মামলার আসামীগণ হচ্ছেন ১। কামাল মিয়া, ২। কবির মিয়া, ৩। মোঃ জয়নাল আবেদীন, ৪। খায়রুল আলম রফিক, ৫। মোঃ রেজাউল করিম, ৬। বাবু সবিনয় গুহ। যাহার ট্র্যাকিং নং- VJE1H
মামলার এজাহার অনুযায়ী জানা যায়, আসামীগণ ফেসবুকে মনির চৌধুরীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেন। বাদী আসামীগণকে অযথা হয়রানি না করে পোস্টগুলো ডিলেট করে দিতে বলেন। কিন্তু ১নং আসামী কামাল মিয়া মনির চৌধুরীর নিকট দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। টাকা না দিলে সামাজিক ভাবে তাকে হেয় করবে বলে হুমকি প্রদান করে।
অভিযোগে জানানো হয় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এরা যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করেছে। এই চক্রটি প্রতারণা মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের নিকট হতে অর্থ হাতিয়ে নিতো। এরাই আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করে বলপুর্বক আমার নিকট হতে টাকা আদায় করার চেষ্টা করে।
মনির চৌধুরী জানান, এজাহার দায়েরের পর থেকে আজ পর্যন্ত একজন আসামীকেও গ্রেফতার করা হয়নি। বরং ওই কর্মকর্তা আসামীদের সাথে বিভিন্ন হোটেলে বসে খাভয়া দাওয়া করে, আড্ডা দেয় এবং আসামীদেরকে আমার দায়েরকৃত
মামলাটি নষ্ট করার জন্য আসামীদের সাথে পরামর্শ করে।
আমার দায়েরকৃত মামলার আসামীরা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আমাকে বার বার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং বলছে যে আপনার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এখন আমাদের পকেটে। আমাদেরকে কখনো গ্রেফতার করবে না। গত ১৭ বছর আমরা কোতয়ালী থানায় কি করছি তা বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তারা ভাল করেই জানে। আমরা সবাই যুবলীগ করি। আমাদের নেতারা পলাতক হলেও আমরা ময়মনসিংহ শহরেই আছি। মীমাংসা না করলে আপনার মামলা আমরা এমনিতেই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দিয়েই ফাইনাল রিপোর্ট করিয়ে নিব। তখন কি করবেন?
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা
অদ্যাবদি আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। আমি ওনাকে বার বার কল দিয়ে ওনি আমার লাইন কেটে দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে মোবাইলে না ডেকে মামলার স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আমার নামে নোটিশ জারি করেছেন। আমার বাসা থেকে ৩নং পুলিশ ফাড়ির দূরত্ব ১৫ মিনিটের রাস্তা। এই স্বল্প দূরত্বে কোন পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে বা আমাকে ফোন দিলে আমি দ্রুত নোটিশটি পেয়ে যেতাম। কিন্তু তা না করে মামলার আসামীদের যোগসাজশে তিনি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশটি আমার হাতে এখনো এসে পৌঁছায়নি। আমি কি বিচার পাবো না? এভাবেই কি আমি হয়রানির শিকার হতে থাকবো এদের হাতে? আমি পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট আবেদন জানিয়েছি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য। একজন সৎ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে আমি ন্যায় বিচার পাবো বলে আশা করছি।
