1. admanu3@gmail.co : IT Admin : IT Admin
  2. admanu3@gmail.com : admanu :
  3. arnasir81@gmail.com : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক
  4. nrad2007@gmail.com : এডমিন পেনেল : এডমিন পেনেল
  5. kawsarkayes@gmail.com : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক
  6. ad@gil.com : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক
  7. rafiqpress07@gmail.com : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম
  8. asmarimi85@gmail.com : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক
শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গৃহহীনদের আবাস দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা – তথ্যমন্ত্রী বাগাতিপাড়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ ও জমি প্রদান নীলফামারীতে ৬৩৭টি পরিবারেরকে পাকা ঘর হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী গোয়াইনঘাটে ২৭০ পরিবারে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর বাগেরহাটে ১৯ হরিণের চামড়াসহ দুই পাচারকারী আটক পঞ্চগড়ে ১হাজার ৬৮ ভূমিহীন পরিবারকে পাকা বাড়ি বরাদ্দ চসিক নির্বাচনে আ’ লীগ প্রার্থীর ইশতেহারে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প প্রাধান্য চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা গত ২ বছরে উন্নয়নের জন্য তালিকা করে বহু প্রকল্প নিয়েছি-প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় কাউন্সিলর হারাধন কে গণসংবর্ধনা

ভূত নামে ভয়ংকর প্রতারণা

মেহেদী হাসান
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৭১ বার পড়া হয়েছে

চারদিক শুনশান নীরবতা, নিস্তব্ধ চারপাশ কোথাও নেই কোন কোলাহল। সকলে যখন গভীর ঘুমে কাতর তখনই একদল যুবক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। উদ্দেশ্য নির্জন স্থানে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে অদৃশ্য কিছুর অস্তিত্ব আছে তার প্রমাণ দেওয়া। আর তাদের এই কাজকে সফল করতে ব্যবহার হচ্ছে ফেসবুক ও ইউটিউব। ইতিমধ্যে তাদের ব্যবহৃত ‘গোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেটর’স’ ঘি ফেসবুক পেজটি বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। ফেসবুক পেজটির লাইক সংখ্যা ৩ লাখ ছুই ছুই আর তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখের কাছাকাছি। মধ্যরাতে বিভিন্ন এলাকার নীরব স্থানে গিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমেই লাইভ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে এই দলের প্রধান আবু নাইম সাকি, আবির হোসেন জনি, সুজন ও মিলনসহ আরও কয়েকজন যুবক।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে একটি রেডিওতে ভৌতিক বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আবু নাইম সাকি সিন্ডিকেট ফেসবুক পেজ খুলে ‘গোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেটরস’ ঘি নাম দিয়ে শুরু করে প্রতারণা।
প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা শুধু বিনোদনমূলক লাইভ করলেও পরবর্তীতে শুরু হয় ধান্দাবাজির কৌশল। মানুষকে অতি সহজে আকৃষ্ট করতে তারা বেছে নেয় ভূত নিয়ে অনুসন্ধানের ফেসবুক লাইভ।
অনুসন্ধান বলছে, সাকি সিন্ডিকেটের লাইভের মূল টার্গেট হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানঘাটকে ভূতুড়ে দেখিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি করা। পাশাপাশি বেশকিছু নির্জন স্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রাচীন স্থাপত্যকে ভূতুড়ে বলেও প্রচার করে বেড়াচ্ছে সাকি সিন্ডিকেট। সর্বসাধারণদের কাছে এসকল অনুষ্ঠানগুলো বেশি আকর্ষিত হওয়ায় সবার নজর কাড়তেই রাত ১২টার পর ফেসবুক লাইভে যায় এই সিন্ডিকেট। আর লাইভ ক্যামেরায় ভূতুড়ে কথাবার্তা বলে লাইভের স্থানকে ভূতুড়ে আখ্যা দিয়ে তৈরি করতে থাকে নানা বিতর্ক। পরবর্তীতে ওইসকল স্থানে ভূতের ভয়ে মানুষের লোক সমাগম কমতে থাকে।
যে সকল স্থানকে নিয়ে সাকি সিন্ডিকেট লাইভে ভূতুড়ে কিংবা ভূতের অস্তিত্বের কথা প্রচার করেছে তার অনেক এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে, সেখানে ভূত বা অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। তবে রয়েছে অস্তিত্ববিহীন নানা গল্পকথা। ডিজিটাল যুগে এসব বিশ্বাস করাই ভুল। তবে স্থানগুলো নির্জন থাকায় সেখানে লোকসমাগম কম থাকে।
এ বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এর মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক বলেন, হিন্দু ধর্মে আছে ভূতউম্মাদ, এর মানে হচ্ছে এটা একটা মানসিক রোগ। এই রোগে মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলাপ বলতে থাকে। আমাদের ধর্মে ভূত পেত বা এই ধরনের কোন অদৃশ্য জিনিসের কোন অস্তিত্ব নেই। শ্মশানঘাটকে আমরা পবিত্র মনে করি। এই স্থানকে যারা ভূতুড়ে বলছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফেসবুক লাইভে এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করলে এতে সামাজিক বা ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। অনেকেই ভয়ে বা আতংকে শ্মশানে যেতে ভয় পাবে।
ইউটিউবার নাজিম হোসাইন টনি জানান, ভূতুড়ে এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে তাদের অনেক খরচ, তাই দর্শকদের কাছ থেকে নানা কৌশলে প্রতারণার ফাঁদ ফেলে লুটে নেয় সর্বস্ব। এবিষয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগের পাহাড়। নিজেদের সিলেব্রেটি পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শক চাহিদাকে পুঁজি করে ফাঁদ পাতা হয় একের পর এক। বেশকিছুদিন আগে এক গৃহহীন বৃদ্ধ নারীর ঘর তৈরি করে দেওয়ার নামে ফেসবুক পেজে প্রচারণা চালিয়ে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে সাকি সিন্ডিকেট। তবে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি। তার মতে সাকি সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেটর’স’ এর নামে বিভিন্ন প্রতারনা করে আসছে।
ভূতের অনুষ্ঠান দেখতে বেশ আগ্রহী সিলেটের জেরিনের (ছদ্মনাম)। তারই ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে ভূতুড়ে অনুষ্ঠান ঘি গ্রুপ থেকে সাকির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। নিয়মিত সাকিদের ফেসবুক লাইভে ভূতুড়ে অনুষ্ঠান দেখতো জেরিন। ভূত সম্পর্কে জানতে বেশ আগ্রহ নিয়েই মাঝে মধ্যে ফেসবুক গ্রুপে অতঃপর মোবাইল ফোনে কথাবার্তা চলতো তাদের। বিবাহিত হওয়ার পরও সাকী নিজেকে অবিবাহিত পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের স্পর্শকাতর কথাবার্তা বলে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর পাঁয়তারা চালায়। একপর্যায়ে জেরিনের সরলতার সুযোগ নিয়ে কৌশলী সাকি সিন্ডিকেট জেরিনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। টাকার অভাবে জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি বন্ধের পথে বলেও জানায় সাকী। এই সুযোগেই জেরিনকে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রতারণার মাধ্যমে সাকি নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৬০ হাজার টাকার বেশকিছু যন্ত্রাংশ (ভূতুড়ে অনুষ্ঠানের) নেয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকাশের মাধ্যমে নেয় ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা বলে টাকা নিত সাকি। এভাবে মাঝে মধ্যে জেরিনের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে সাকি। বিষয়টি সন্দেহ হলে জেরিন সাকির সহযোগী আবির হোসাইন জনিকে বিষয়টি জানালে সেও সাকির মত একই প্রতারণার ফাঁদ পাততে থাকে এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে। এক পর্যায়ে সাকিদের সঙ্গে জেরিনের সকল কথোপকথন সরিয়ে নিতে জেরিনের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাঁক করে ফেলে সাকি সিন্ডিকেট। এবিষয়ে জেরিন বাদি হয়ে ৮ অক্টোবর সিলেটের গোপালগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যা থানাপুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রাখে। সাধারণ ডায়েরী নং- ৪৭২।
এ বিষয়ে জেরিন (ছদ্মনাম) জানান, সাকি সিন্ডিকেট ‘গোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেটরস’ ঘি নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল ও টিম ঘি ‘গোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেশন’ ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। তিনি এসকল প্রতারকদের অপকর্ম বন্ধ ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
মুঠোফোনে আবির হোসাইন জনি বলেন, ভূত বলতে কিছুই নেই, শুধু মাত্র জিনের অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। তারা ‘গোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেটরস’ ঘি এর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জিনের অস্তিত্ব অনুভব করেছে। সেটাই ফেসবুক লাইভে দেখানো হয়েছে। আর তিনি কারো সঙ্গে কোন প্রতারণা করেননি যে সকল অভিযোগ রয়েছে তা তাদের টিম লিডার সাকিকে নিয়ে। তিনি শুধু টিমের সদস্য মাত্র। তিনি জানান, তাদের কাছে গোস্ট হান্টার মিটার আছে সেটা দিয়েই তারা জিনের অস্তিত্ব খুঁজে পান। যেসকল জায়গায় ‘টিম ঘি’ এর সদস্যরা যান সেই সকল জায়গার বিষয়ে কেউ তাদের অস্বাভাবিক তথ্য দিলেই তারা সেখানে গিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান করে থাকেন। অপর দিকে এই টিমের অন্যতম সদস্য সুজন কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, জনি তাদের টিম লিডার এই বিষয়ে তারাই ভাল জানে।
সাকী সিন্ডিকেটের কাছে প্রতারিত আরও এক তরুণী রাজধানীর উত্তরার সুমি (ছদ্মনাম)। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে সাকিদের কাছে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারান তিনি। ভূতুড়ে অনুষ্ঠানের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলটি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানায় সাকী। ভূতুড়ে অনুষ্ঠানটি দেখতে বেশ আগ্রহী ছিল সুমি। টাকার অভাবে সাকির বাসা ভাড়া দিতে পারছে না, খেতে পারছে না এমনকি সাকির স্ত্রীও চলে যাচ্ছে বলে মানসিক ব্লাকমেইল করে ১০ হাজার টাকা চায় সুমির কাছে। টাকা না দেওয়ায় বেশকিছুদিন পর সাকী সুমিকে বলে, টাকার অভাবে তার ব্যবসায় ধস নেমেছে, এমনকি সাকির বাবাও লাঞ্ছিত হয়েছে। দু-তিন দিন যাবত না খেয়ে আছে সাকী। এতেই মন গলে যায় সুমির। ১ মাসের কথা বলে সুমির কাছ থেকে সাকি ও তার এক সহযোগী এসে টাকা ধার নেয়ার জন্য। তবে সুমির কাছে নগদ টাকা না থাকায় ১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করে। এরপরই সাকী সুমিকে ফেসবুক থেকে ব্লক করে দেয়। পরে সুমি বুঝতে পারেন যে, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এরপর সুমি নিরুপায় হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি নং ১১৪৬। পুলিশ সাকিকে ফোন করলে সাকী সুমিকে শুধু মাত্র একটি স্বর্ণের চেইন ফেরত দিয়ে ১ মাসের মধ্যে বাকি স্বর্ণালংকার ফেরত দেয়ার জন্য সময় নেয়। পরবর্তীতে সাকী প্রশাসনের চাপের মুখে কিছু টাকা ফেরত দিলেও স্বর্ণালংকার দেয়নি।
এবিষয়ে সুমি (ছদ্মনাম) বাংলাদেশের আলোকে জানান, সাকী সিন্ডিকেটের সকল সদস্যই প্রতারক। তারা মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে ইমোশনাল (আবেকময়) ব্লাকমেইল করে অর্থ আদায় করে আসছে। তারা এভাবে অনেকের সঙ্গেই প্রতারণা করে আসছে।
এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাইবার ক্রাইম আওয়ারনেস ফাউন্ডেশন এর প্রেসিডেন্ট কাজী মোস্তাফিজ বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি কেউ এ ধরনের অপকর্ম করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে আইনি ব্যবস্থা নিবে। তবে মানুষকে অবশ্যই এসকল বিষয়ে সচেতন থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর