1. admanu3@gmail.com : admanu :
  2. arnasir81@gmail.com : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক
  3. nrad2007@gmail.com : এডমিন পেনেল : এডমিন পেনেল
  4. kawsarkayes@gmail.com : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক
  5. ad@gil.com : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক
  6. rafiqpress07@gmail.com : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম
  7. asmarimi85@gmail.com : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

সামাজিক অবক্ষয় রোধে আমাদের করনীয়

প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

লায়ন এ কে জাহেদ চৌধুরী ।।

সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে নববধু ধর্ষন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন ও পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বলাৎকার, মসজিদের মুয়াজ্জিন ও গীর্জার পাদ্রী কর্তৃক ধর্ষণ সহ লোমহর্ষক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনাবলী ইদানীং অহরহ ঘটে চলেছে। মানুষ নামের কিছু নরপশুর এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। ছাত্র যুবক সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। এরই মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান সংযুক্ত করে আইন সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়, যা ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রী সভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
এখন প্রশ্ন হল আইন করে বা আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ দমন কতটুকু সম্ভব। আইনের সংশোধন বা সংশোধিত আইন কার্যকর করার পাশাপাশি সকল ধরনের অসামাজিক, অনৈতিক ও গর্হিত কাজগুলো প্রতিরোধকল্পে নিম্নলিখিত বিষয় গুলোকে অত্যাবশ্যকীয় করণীয় বলে সচেতন মহল মনে করেন।
ক) প্রত্যেক ধর্মই অনৈতিক কাজকে নিরুৎসাহিত করে বা পরকালে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিটি পিতা-মাতার উচিৎ হবে শিশুকাল থেকে সন্তানদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং ধর্ম চর্চায় যত্নবান হওয়া।
খ) পারিবারিকভাবে শিশুদেরকে পোশাক পরিচ্ছদ সব বিষয়ে শালিনতা বোধ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
গ) স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ শিক্ষার প্রসারে যত্নবান হতে হবে। তাদের মধ্যে নৈতিকতা বোধ জাগ্রত হলে যে কোন ধরনের গর্হিত কাজ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে।
ঘ) এক সময় গ্রামাঞ্চলে সামাজিক সংগঠনগুলো অনেক কার্যকর ছিল। ফলে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে গঠনমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হত। কালের বিবর্তনে রাজনৈতিক দৌরাত্মে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা ক্ষীন হয়ে পড়ায় সমাজ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে উপজেলা সমাজসেবা অফিস প্রতিটি এলাকায় ঝিমিয়ে পড়া সামাজিক সংগঠণগুলোকে সক্রিয় করে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে অসামাজিক কর্মকান্ড প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
ঙ) আকাশ সংস্কৃতির দৌরাত্মে দেশীয় সংস্কৃতির করুন অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং অপসংস্কৃতির চর্চা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়কে এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে যুব সমাজকে অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা যায়।
চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কঠোর নজরদারীর আওতায় আনতে হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রী বা যুব সমাজ এর অপব্যবহার করতে না পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইটি এক্ট এর সংস্কার পূর্বক অপব্যবহার কারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ছ) মাদকের বিপনন ও ব্যবহার সমাজকে ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যাচেছ। বেশিরভাগ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে মাদকসেবীদের দ্বারা। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনে এলাকা ভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে বিপনন কারী, ব্যবহারকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।
জ) অপরাধীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় বা সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদিও এরুপ কিছু নজির দেশবাসী ইতিপূর্বে প্রত্যক্ষ করেছে তথাপী দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কেস্ টু কেস্ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অতীব জরুরী বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
ঝ) অপরাধীদের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রুততার সাথে বিচারকার্য সম্পন্ন করা গেলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে সামাজ চিন্তকরা মনে করেন। ইংরেজীতে একটি কথা আছে, “ঔঁংঃরপব ফবষধুবফ লঁংঃরপব ফবহরবফ” সুতরাং বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহারকল্পে আইনের সংশোধনী অতীব জরুরী।

বুদ্ধিজীবি মহলের কেউ কেউ মনে করেন উন্নয়ন ও অপরাধ সমান্তরাল গতিতে চলে। অর্থাৎ দেশ যেহেতু উন্নতির দিকে যাচ্ছে সেহেতু অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। তবে সচেতন মহলের অনেকেই এর সাথে দ্বিমত পোষন করে বলেন, এই তত্ত্ব যদি সঠিক হয় তাহলে কোনদেশ বা জাতি উন্নয়ন চিন্তা বাদ দিয়ে পশ্চাদপদতাকে অবলম্বন করত। সচেতন মহলের মতে উন্নয়ন তার নিজস্ব গতিতে চলবে পাশাপাশি সমাজ তথা জাতিকে অপরাধমুক্ত রাখতে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের প্রায়োগিক বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে সরকার ও জনগণকে সমান্তরাল গতিতে চলতে হবে। তাইলেই অপরাধমুক্ত সামাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সকলকে মনে রাখতে হবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হল সামাজিক শৃঙ্খলা।

লেখক: কলামিষ্ট, সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর