1. admanu3@gmail.com : admanu :
  2. arnasir81@gmail.com : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক
  3. nrad2007@gmail.com : এডমিন পেনেল : এডমিন পেনেল
  4. kawsarkayes@gmail.com : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক
  5. ad@gil.com : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক
  6. mrahman192618@gmail.com : মশিউর রহমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : মশিউর রহমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  7. rafiqpress07@gmail.com : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম
  8. asmarimi85@gmail.com : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক
নীলফামারীতে মালটা চাষে লাখপতি মনোয়ারা - দৈনিক প্রথম সংবাদ
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

নীলফামারীতে মালটা চাষে লাখপতি মনোয়ারা

প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্বপ্না আক্তার। রংপুর ব্যুরো প্রধান।।

নীলফামারী সদর উপজেলায় প্রবাসী শফিকুল ইসলামের পরামর্শে মালটা চাষ করে লক্ষাধীক টাকা আয় করেছে মনোয়ারা বেগম।

প্রবাসী শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের ঢাকাইয়াপাড়া এলাকার মৃত বদির উদ্দীনের ছেলে। দীর্ঘদিন যাবত বিদেশে ছিলেন শফিকুল ইসলাম। বাড়িতে তার সহধর্মীনি ও এক ছেলে এক মেয়ে। শফিকুল ইসলাম ইন্টারনেটে মালটা চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে তার সহধর্মীনি মনোয়ারা বেগমকে মালটা চাষের পরামর্শ দিলেন। সেইথেকে সহধর্মীনি মনোয়ারা বেগমের বাড়ি ভিটার পার্শের ২১ শতক জমিতে তৈরি হলো মালটা বাগান। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সফল মনোয়ার বেগম।

সরেজমিনে মালতা চাষি মনোয়ারা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন যাবত বিদেশে থাকেন। হটাৎ একদিন মোবাইলের মাধ্যমে আমাকে মালটা চাষের পরামর্শ দেয় আমার স্বামী। প্রথমে আমি ভয় পাই কিন্তু আমার স্বামীর আগ্রহ দেখে ২০১৮ সালে আমার ২১ শতক জমিতে মালটা চারা রোপন করি। তার ১ বছর পর কিছু সংখ্যক মালটা পাই। মালটা খেয়ে দেখি অসাধারণ সুস্বাদু। । এর পর আরও বেশী পরিশ্রম করি বাগানে।এবছর গতবছরের চেয়ে ২ গুণ মালটা পেয়েছি। আমরা খুবেই আনন্দিত।

এলাকাবাসী হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি অনেক দিন ধরে কানমুখে শুনি প্রবাসী শফিকুলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম মালটা বাগান লাগাইছে। আজকে আসছি বাগান দেখতে। তাদের এই বাগান দেখে আমি মুগ্ধ। মনোয়ারা বেগম আমাকে কিছু মালটা দিলো খাওয়ার জন্য খেয়ে দেখলাম মিষ্ঠি এত সুস্বাদু যে মন ভরে গেল। আমাদের এসব জমিতেও যে এতো সুস্বাদু মালটা চাষ করা যায় আগে জানতাম না।তাই মনোস্থির করলাম আমিও চাষ করবো।

প্রবাসী শফিকুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি বিদেশে থাকাকালীন আমার সহধর্মীনি মনোয়ারা বেগমকে মালতা চাষের পরামর্শ দেই। এরপর সে ২০১৮ সালে ২১ শতক জমিতে বারি-১ জাতের মালটা চারা রোপন করে এবং ২০১৯ সালে কিছু সংখ্যক ফল আসে গাছে। ২০২০ সালে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বাগান দেখে আমি অবাক। এবছর (২০২০ সাল) গাছে এতো সুন্দুর ফল ধরেছে যা কল্পনার বাইরে এবং এই মালটা খুবেই মিষ্ঠ। আমার ২১ শতাংশ জমিতে মোট ৯০ টি গাছের মধ্যে প্রতিগাছে ১৫-২০ কেজি ফল পাবো যা বাজারের থেকে কম মূল্যে বিক্রি করলেও এবছর বাগান থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার মতো আয় হবে। আগামী বছর এর দ্বিগুণ ফল পাবো বলে আশা করি।
তিনি আরও বলেন, মালতা গাছে রোগবালাই খুবেই কম। বিশেষ করে জাব পোকা, পিপড়া ও মাক্রসার আক্রমন হয়ে থাকে। এরজন্য সহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বছরে দুই একবার ওষুধ প্রয়োগ করলে গাছ থেকে পোকা-পিপড়া দমন করা যায়। আমি বিদেশে যা ইনকাম করতাম তার চেয়েও বেশী ইনকাম করবো এই মালতা বাগান থেকে। তাই আগামী বছর আমি আমার ৫ বিঘা জমিতে মালতা বাগান করবো। এই সুস্বাদু মালতা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশীক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব।

খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান প্রধান বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রবাসী মোঃ শফিকুল তার সহধর্মীনিকে দিয়ে মালতা বাগান তৈরি করেন। এই বারি-১ মালতা খুবেই মিষ্টি। তার দেখাদেখি মালতা চাষে ইচ্ছুক বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন শফিকুলের মালতা বাগান দেখতে আসে এবং পরামর্শ নেয়। আমরা মনে করি, আমরা যারা বেকার আছি আমাদের বাড়ির পার্শে পতিত জমি থেকে শুরু করে আবাদী জমিতে মালতা চাষ করলে দেশের বেকারত্ব দুর হবে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে মালতা ফল বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের কৃষিবান্ধব সরকার শেখ হাসিনা মালতাকে দেশী ফলে রুপান্তরিত করার প্রকৃয়া হাতে নিয়েছে। আমাদের দেশে চাষ উপযোগী বারি-১ নামের মালতা পেয়েছে।
এই মালতা বীজ দেশের সব জেলায় চাষ উপযোগী, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত মালতার চেয়ে এই মালতা অধিক মিষ্টি। নীলফামারী জেলায় এখন পর্যন্ত ৭ একর জমিতে প্রায় ২০ টি বানিজ্যিক মালতা বাগান হয়েছে।আমরা সচরাচর মালতা চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছি। প্রত্যাশা করছি আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সরকারের প্রচেষ্টায় দেশে মালতা আমদানি প্রায় পুরোটাই স্টক করতে সক্ষম হবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর