1. admanu3@gmail.com : admanu :
  2. arnasir81@gmail.com : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক
  3. nrad2007@gmail.com : এডমিন পেনেল : এডমিন পেনেল
  4. kawsarkayes@gmail.com : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক
  5. ad@gil.com : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক
  6. rafiqpress07@gmail.com : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম
  7. asmarimi85@gmail.com : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অপার সম্ভাবনাময় খাত – মন্ত্রী বৃক্ষের আচ্ছাদন ২৫ শতাংশে উন্নীতির লক্ষ্যে সরকার – পরিবেশ মন্ত্রী ঝিনাইদহে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভ মিছিল সোনাপুর হাই স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতি বিনির্মাণে মানুষের মনন তৈরিতে গণমাধ্যম অনন্য -তথ্যমন্ত্রী দেশব্যাপী কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপিত হচ্ছে শনিবার সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মানবকন্ঠ’র ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণে ডিইউজের নিন্দা অসহায় শিশুর পাশে সোনাগাজী পৌর মেয়র এড.খোকন যশোরে ব্যবসায়ী মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আটক-২ রংপুরে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এএসআই রাহেনুল গ্রেফতার

পতিতা

প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

গল্পঃ পতিতা
লেখিকাঃ ফেরদৌসী

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো। নিজের কষ্টগুলো কাউকে বুঝাতে পারতাম না,আর আমার কষ্টের কথা কেউ শুনতেও চাইতো না কারণ ওদের দরকার কেবল আমার দেহটা।যা নিয়ে ওরা ফুর্তি করতো,আনন্দ করতো, আমার চোখের পানি দেখার মতো সময় ওদের কারোরই ছিল না।

একসময় সব কষ্ট মুছে ফেললাম, যখন দেখলাম মায়ের হাঁপানি টা বেশ বেড়েছে, কিছুদিন আগে ডঃ বললো মাকে খুব শীঘ্রই হার্ট সার্জারি করাতে হবে, অনেক টাকার দরকার।বড় হসপিটালে ভর্তি করাতে হবে। কিন্তু কোথায় পাবো এতো টাকা?কে দিবে এতো টাকা? দিনরাত ভাবতে লাগলাম কিন্তু কোন কুলকিনারা খুঁজে পেলাম না।বাধ্য হয়ে চাকরি খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু যেখানেই গেলাম সেখানেই আমার দেহটার উপর নজর দিতে লাগলো সবাই। অফিসের বড় সাহেব বললো, চাকরি করে আর কতো টাকা পাবে তুমি? এর চেয়ে চলো আমার বাসায়। একদম খালি আছে বাসা। তোমার ভাবি নেই। অনেক টাকা দিবো তোমাকে চাকরি করতে হবে না। ইচ্ছে করলো দুই গালে দুইটা থাপ্পড় দেই কিন্তু পারলাম না উল্টো নিজের ইজ্জত নিয়ে চলে এলাম। অনেক ভেবে দেখলাম কেবল একটি পথই খোলা আছে।যা দিয়ে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করতে পারবো।আর এতো অল্প সময়ের মধ্যে মায়ের চিকিৎসাও করাতে পারবো। শুরু করলাম নতুন এক ব্যবসা।

মাকে ভালো একটা হসপিটালে ভর্তি করালাম, ভালো চিকিৎসা পেয়ে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠলেন মা।

একদিন মা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,এতো তাড়াতাড়ি এতো গুলো টাকা তুই কোথাথেকে পেয়েছিস?কে দিলো তোকে টাকা? মায়ের কথায় চুপ করে রইলাম। মায়ের বুঝতে বাকি রইল না।বললো, সেই ছোট্ট বেলায় তোর বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। বহুকষ্টে তোকে নিয়ে সংসার চালাতে হয় আমাকে। তবুও নষ্ট হতে চাইনি কিন্তু কিছু অমানুষের চোখ পড়লো আমার যৌবনের উপর।ভালো থাকতে দিলোনা ওরা। একদিন গভীর ঘুমে ছিলাম তোকে নিয়ে।সেই রাতেই ধর্ষিত হলাম।চার পাঁচজন মিলে ওরা আমার দেহটাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে।নষ্ট দেহটা নিয়ে মরতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোর মুখের দিকে তাকিয়ে পারলাম না। কেউ আমার কথা বিশ্বাস করলো না উল্টো আমাকেই গ্ৰাম থেকে তাড়িয়ে দিলো।শহরে এসেও খারাপ মানুষের চোখ এড়াতে পারলাম না শেষ পর্যন্ত শুরু করলাম দেহ ব্যবসা। কিন্তু আমি কখনো ই চাইনি তোর জীবনটা আমার মতো হোক,আর সেই তুই কিনা শেষ পর্যন্ত……..

অনেক দিন কেটে গেল একদিন আমার জীবনে সুখের দরজা খুললো।এক খদ্দের নিয়মিত আমার ঘরে যাতায়াত শুরু করলো। আমাকে তার নাকি খুব পছন্দ। আমার মাকে বললো, আমি চুমকিকে বিয়ে করতে চাই।কথাটা শুনে মা চমকে গেলেন।বললেন,না বাবা! আমাদের এই সমাজের মেয়েদের কোন সংসার হয়না। তাদের নির্দিষ্ট কোন স্বামী নেই।এই সমাজ আমাদের ঘৃণা করে। কিন্তু সাকিল কারো কথা শুনলেন না। শেষ পর্যন্ত মা বিয়েতে মত দিলেন।

অনেক ধুমধাম করে আমার বিয়ে হলো। এমন একটা বর আর সংসার পাবো কল্পনাও করিনি। সাকিল খুব যত্ন করতো আমার। সবসময় খেয়াল রাখতো। মাঝে মাঝে তো নিজেকেই বিশ্বাস হতো না এতো সুখ আমার ভাগ্যে ছিলো?

তবে সাকিল আমাকে নিয়ে একটা ভাড়ার ঘরে উঠলেন, আত্বীয় স্বজনদের সাথে তেমন পরিচয় করিয়ে দেননি। তবুও খুব সুখে ছিলাম। বছর যেতে না যেতেই ঘর আলো করে এলো আমার মেয়ে লিজা।সুখ যেন দিগুন বাড়লো। কিন্তু এই সুখ খুব বেশি সইলোনা আমার কপালে।

একদিন সাকিল অফিস থেকে এসে জানালেন আগামীকাল আমাদের বাসায় অফিসের বস আসবে।তাকে খুব ভালো করে যত্ন করতে। পরেরদিন বস এলে আমি তার খুব কেয়ার করি।।তবে লোকটা আমাকে দেখে যেন গিলে খাচ্ছিলেন আমাকে।

রাতে সাকিল খুব খুশি ছিলেন আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,আমার একটা আবদার রাখবে সোনা? তোমাকে রাখতেই হবে,বলো রাখবে? মাথা নাড়ালাম। সাকিল বললো, অনেক দিন থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বসের টেবিলে জমা পড়ে আছে।বস ছাড়ছেন না কিছুতেই।ঐ ফাইলটা ওকে না হলে আমার একলাখ টাকা লস হবে। গতকাল উনি তোমাকে খুব পছন্দ করেছেন।তার একটা শর্ত তুমি একবার তার বাসায় যাবে….. কেবল একটা রাত তার সাথে……. তবেই ফাইলে সই দিবেন। কথাগুলো শুনে নিজের কান চেপে ধরলাম। দুচোখ বেয়ে অঝোরে পানি পড়তে লাখলো। কোন কিছু না ভেবেই এক থাপ্পর বসিয়ে দিলাম সাকিলের গালে। বললাম তুমি কি সত্যিই আমাকে তোমার স্ত্রী মনে করো না পতিতা? সাকিল বললো, এমন ভাবে বলছো কেন?আগে তো তুমি এটাই করতে রাতের পর রাত। এখন তো কেবল একটি রাত কাটাতে বলেছি। তাতে কি হয়েছে?

নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না, রাগেদুঃখে মেয়ের হাত ধরে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। যাবার আগে তাকে বললাম তুমি আমাকে যেখান থেকে নিয়ে এসেছিলে আবার সেখানেই নামিয়ে দিলে।এই তোমাদের মতো মুখোশ পড়া,ভদ্র মানুষদের জন্যই আমরা পতিতা হই। রাতের আঁধারে তোমরা আমাদের দেহ ভোগ করো আবার সকাল হলে ঘৃণা করো। চাইনা এই সভ্য সমাজ। আমি ভালো হতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি দিলেনা। আমি চললাম আমার আসল ঠিকানায়। জানি না আমার মতোই একদিন আমার মেয়ে হবে কিনা?কারন,এই সমাজ এই সংসার আমাদের জন্য নয় তাই আমার জায়গাতেই ফিরে গেলাম।

সমাপ্ত।।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর