1. admanu3@gmail.com : admanu :
  2. arnasir81@gmail.com : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক : আব্দুর রহমান নাসির - বিশেষ প্রতিবেদক
  3. nrad2007@gmail.com : এডমিন পেনেল : এডমিন পেনেল
  4. kawsarkayes@gmail.com : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক : মোঃ আবু কাউসার - বিশেষ প্রতিবেদক
  5. ad@gil.com : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক : মোহাম্মদ আবু দারদা সহ-সম্পাদক
  6. mrahman192618@gmail.com : মশিউর রহমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : মশিউর রহমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  7. rafiqpress07@gmail.com : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম : সম্পাদক ও প্রকাশক - এম.রফিকুল ইসলাম
  8. asmarimi85@gmail.com : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক : আসমা আক্তার রিমি সহ-সম্পাদক
অতৃপ্ত আত্না - দৈনিক প্রথম সংবাদ
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

অতৃপ্ত আত্না

প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মাঝরাতে হঠাৎ টেলিফোন আসলো! ভালো করে খেয়াল করে দেখলো, গ্ৰাম থেকে জব্বার চাচা ফোন দিয়েছে। তার কথায় একটা ভয় লুকিয়ে ছিল। তিনি জানালেন, আমার ছোট বেলার খেলার সাথী কারিশমা হটাৎ আজ মাঝরাতে গলায় দড়ি দিয়েছে। কিন্তু কেন দিয়েছে জানেনা কেহই। খবর টা শুনে বুকের ভেতর টা কেমন আনচান করে উঠলো। কারন কারিশমা আমাকে খুব ভালোবাসতো। আমি বাড়িতে গেলে খুব যত্ন করতো,মেয়েটা সাজুগুজু করে আমার মন ভোলানোর চেষ্টা করতো।শহরে আসার পর প্রায়ই আমাকে ফোন দিয়ে বলতো, তুমি আমাকে কেন বুঝোনা, কবে বুঝবে? আমি মরে গেলে? কিন্তু আমার এসব কিছু ন্যাকামি মনে হতো।এসব কথা পাত্তাই দিতাম না। তবুও হটাৎ তার জন্য খারাপ লাগলো। মনে চাইলো,এই মুহূর্তে বাড়িতে চলে যাই। কিন্তু নতুন বিয়ে করেছি।বউ ছেড়ে যাব কিভাবে? তারচেয়ে আগামীকাল গ্ৰামে যাব বউ নিয়ে কারন,গ্ৰামের কেহ আমার নতুন বউকে দেখেনি। সকাল বেলা ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির দিকে যাত্রা করলাম।

গ্ৰামে যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় রাত। গিয়ে ই কারিশমার খবর নিলাম, জানলাম মেয়েটি আমার জন্য পথ চেয়ে অপেক্ষা করেছিল দিনের পর দিন।ওর ধ্যানজ্ঞান সবই নাকি ছিলাম আমি। কিন্তু আমার বিয়েটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি,তাই মাঝরাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আত্মহত্যা করলো। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। সারারাত টেনশন করতে ছিলাম।

একদিন গভীর ঘুমে ছিলাম, হটাৎ কারো নূপুরের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল,যেন কেউ আমার ঘরের সামনে থেকে দৌড়ে পালালো। বুঝতে পারলাম না কে ওটা? বুকের ভেতর টা হটাৎ কেঁপে উঠলো। কারিশমা আমার চাচাতো বোন।ওর মা নেই চাঁচা ই ওকে মানুষ করেছে। একমাত্র মেয়ে ছিল কারিশমা তাই আদুরে খুব।সারা বাড়িতে ওর নূপুরের আওয়াজে ঝনঝন করতো। হটাৎ এমন শব্দ শুনে মনে হলো এ যেন কারিশমার নূপুরের আওয়াজ।

এরপর একদিন রাতে ছাদে গিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখছিলাম,মনটা কিছুটা ভালো লাগলো, আমি একা ছিলাম। অনেক ক্ষণ পর মনে হলো কে যেন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে। আবছা অন্ধকারে বুঝা গেল না, পেছনে ঘুরতেই কিছুই দেখতে পেলাম না। মনের ভুল ভেবে আবার নিজের মতো করে দেখতে লাগলাম দৃশ্যগুলো।এবারও এমন মনে হলো। তখন বেশ অন্ধকার।একটু ভয় ভয় লাগছিলো। আবার মনে হলো কে যেন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে। ঘুরে তাকাতেই কিছুই দেখতে পেলাম না।ছাদ থেকে নেমে আসলাম কিন্তু ভাবলাম আমার সাথে এমন কেন হচ্ছে? সবই কি আমার মনের ভুল?

আমার বউ সানজিদা কে নিয়ে শুইয়ে আছি, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আমরা। রাতে এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলাম, দেখতে পেলাম একটা মেয়ে আমার দিকে রক্তমাখা ছুরি হাতে এগিয়ে আসছে, আমি চিৎকার করে বললাম কে তুমি? আমাকে কেন মারতে চাও? মেয়েটির চুলগুলো এলোমেলো।মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। খুব বাজে একটা দেখতে। চোখের মণি নেই সেখানে আগুন বের হচ্ছে। খুব ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠলাম, বল্লাম আমাকে মেরোনা প্লিজ। আমি কি দোষ করছি?মেয়েটি খুব জোরে জোরে হাসতে ছিল আর বললো, তোমাকে মরতে হবে, না হলে আমার সাথে যাবে কি করে?আমি তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যাবো,হা হা হা হা হা।ওর হাসিটা খুব ভয়ংকর ছিল।
ক্রমে ক্রমে সে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো,মুখটা অনেক টা দেখা যাচ্ছে। মুখের দিকে তাকিয়ে প্রচন্ড এক চিৎকার দিলাম, কারিশমা তুমি? তুমি…না মরে ….গেছো? হা আমি মরে গেছি কিন্তু আমি ওখানে খুব একা।তাই তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যেতে এসেছি। তুমি মারা গেলেই আমরা দুজন এক হতে পারবো।না এ হতে পারে না আমি সানজিদা কে ছেড়ে কোথাও যাবো না। আত্মা টা খুব জোরে জোরে হেসে বললো তোমাকে আমি নিয়েই যাবো এই বলে হাত বাড়ালো আমার দিকে আমি চিৎকার দিলাম। সানজিদা ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং বললো কি হয়েছে দুঃস্বপ্ন দেখছো? এখানে আসার পর দেখছি তুমি ঠিক নেই।কি এতো ভাবো? সানজিদার কাছ থেকে লুকিয়ে গেলাম।কারন ও ভয় পাবে বলে।

পরদিন খুব ভোরে উঠেই চাচার কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম।সব শুনে চাচা বললেন,বাবা তোমাকে কারিশমা খুব ভালোবাসতো। তোমার জন্য পথ চেয়ে বসে থাকতো। যেদিন শুনলো তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তারপর থেকে সে খাওয়া দাওয়া ছেঁড়ে ই দিলো। নিজের ভিতরের কষ্টটা হজম করতে না পেরে মেয়েটা আমার আত্মহত্যা করলো। চাচাকে বললাম যা হবার হয়ে গেছে এখন এসব থেকে আমি কিভাবে মুক্তি পাব? চাচা বললেন, চিন্তা করোনা,আজই আমি কবিরাজের বাড়িতে যাবো,এর একটি ব্যাবস্থা করবো।

খুব ভোরে কবিরাজ আর তার দুজন শিষ্য আসলেন আমাদের বাড়িতে। গোল হয়ে বসলেন সাথে আমি আর সানজিদা। কবিরাজ সামনে পানি রাখলেন আর অনেক দোয়া দরুদ পড়লেন। তিনি নাকি দুষ্ট আত্মা হাজির করতে পারেন। অনেক দোয়া পড়ার পর হঠাৎ একটা চিৎকার শুনতে পেলাম। চিৎকার এতো জোরে ছিল যে দুহাত দিয়ে কান চেপে ধরলাম। কবিরাজ বার বার বলেছিলেন,এই দুষ্ট আত্মা, তুই এই নব দম্পতিকে মুক্তি দে তোর কবল থেকে। আত্মাটি বার বার বললো, না ওকে আমি নিয়ে যাব আমার ওখানে। ওকে আমি ভালোবাসি। সেকি ভয়ঙ্কর রূপ আর কি তার চিৎকার আমি তো বেহুঁশ হবার জোগাড়। কবিরাজ চাচাই বললেন, যাকে ভালোবাসিস তাকে কষ্ট দিচ্ছিস কেন?যা চলে যা। ওদের মুক্তি দে।

অনেকক্ষণ এরুপ বুঝানোর পর কারিশমা রাজি হলো এবং আমি ক্ষমা চেয়ে নিলাম তার কাছ থেকে নিজের অজান্তে ভুল হওয়ার জন্য।

কারিশমা যেতে যেতে বিকট চিৎকার দিয়ে বললো, আমি তোমাকে মুক্তি দিলাম, তবে ঐ পরপারে তোমার জন্য অপেক্ষায় থা..ক..ব।

আমি আর সানজিদা এতক্ষণ যেন দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম এবং কারিশমার কাছ থেকে মুক্তি পাওয়াতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম।

সমাপ্ত।।

লেখিকা — ফেরদৌসী।।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর