ভ্রমণ ও ভালোবাসাময় অর্জন

লেখক- কবি তাহেরা খাতুন

গত বৃহস্পতিবার ১২/০১/২০২৩ রওয়ানা হলাম নড়াইল জেলার উদ্দেশ্যে । নড়াইলের বিছালী গ্রামে নজরুলচর্চা কেন্দ্র “ অগ্নিবীণা” ও “ ঘ রা মি ঘ র “ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নজরুল গবেষক শ্রদ্ধেয় জনাব এইচ এম সিরাজ গুরুজী আমাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বছরব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার সমাপনী উৎসবে ।
শ্বৈত্য প্রবাহের প্রভাবে ভেবেছিলাম যাবো না।কিন্তু গুরুজী ছাড়লেন না,উনি বললেন তোমাদের আসার ব্যবস্থা করেছি প্রধান অতিথির গাড়িতেই আসবা তোমরা।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন ১৩ , ১৪ জানুয়ারী দুদিনব্যাপী ।এই দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে “ নজরুল জলসা ও মহাসম্মেলন “ । এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সিনিয়ার সচিব তিনি বর্তমান চেয়ারপারসন সোশাল ডেভোলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ( SDF ) Ministry of Finance মাননীয় মো: আব্দস সামাদ ফারুক । তিনি এক সময়ে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন, আমার ছেলের মুখে অনেক প্রশংসা শুনেছি কিন্তু এবার দেখে আমার মনে হয়েছে ছেলে কম বলেছে,স্যার সকল প্রশংসার উর্ধে, একজন দয়ালু এবং মহৎপ্রাণ মানুষ । স্যার ক্ষণজন্মা এক মহান ব্যক্তিত্ব যিনি অবসরে গেলেও সবার মনে শক্ত আসন গড়েছেন।যার প্রমাণ ছিলো আমাদের সামনেই।অগ্নিবীণা সাধারণ সম্পাদক এবং তরিকুল ভাইয়া তোড়ন বানিয়েছেন স্যারের সম্মানে খুব ভালো লেগেছে আমার।
জনাব আব্দুস সামাদ ফারুক স্যার লেখক ও কবি হিসেবে বিশেষভাবে বিজ্ঞজন । তিনি তাঁর সম্পাদিত “ কল্লোলিনীর কলতান “ নামের একটি বই আমাকে উপহার দিয়েছেন । সবাইকেই দিয়েছেন স্যার।অনেক বড় জ্ঞাণী গুণীজনের লেখা, নদী নিয়ে অসাধারণ সব কবিতা এই বইতে।স্যার সম্পাদনা করেছেন।
আমার সঙ্গে আরেকজন বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি কবি আমার প্রিয়আবৃত্তি শিল্পী অগ্নিকন্যা Seema Islam । আমরা দুজন প্রধান অতিথির সঙ্গে সফরসঙ্গী হয়ে নড়াইল জেলা সার্কিড হাউস এ পৌঁছালাম ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলে । সেখানে প্রথমেই জেলা প্রসাশকের পক্ষ থেকে আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হলো । বিকেলের চা-নাস্তা গ্রহন করে আমরা ছুটলাম বিখ্যাত চিত্রশিল্পী সর্বজন শ্রদ্ধেয় এস এম সুলতানের বাড়ীতে । যখন শিল্পীর বাড়িতে পৌঁছালাম তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না । দেখলাম তাঁর সমাধি , শিশু স্বর্গ ( এটি একটি বোট , যে বোটে করে শিল্পী শিশুদের নিয়ে চিত্রা নদীতে ঘুরে বেড়াতেন এবং ছবি আঁকা শিখাতেন) , চিত্রশালা , তাঁর উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র , শিশু অডিটোরিয়াম , সর্বোপরি শিল্পীর বাড়ি এবং পাশ দিয়ে বয়ে চলা স্রোতস্বিনী চিত্রা নদী ।সন্ধ্যার পর ফিরে এলাম সার্কিড হাউসে ।

পরেরদিন ১৩ তারিখ শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় গেলাম বিছালী গ্রামে অগ্নীবীণার অনুষ্ঠানে । সেখানে ঢুকবার পথে ফুলেল শুভেচ্ছায় মহিত হয়েছি । অনুষ্ঠানে প্রিয়তম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে শিশু কিশোর দের আবৃত্তি, গান, এবং আলোচনা হয়।আমার কোন দক্ষতা নেই, ছোট্ট একটি কবিতা পড়েছি। “ঘ রা মি ঘ র “ ও “ অগ্নিবীণার “ পক্ষ থেকে প্রধান অতিথির হাত দিয়ে একটি পুরস্কার প্রদান করেছেন । সেজন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । প্রধান অতিথির মূল্যবান আলোচনা মুগ্ধ হয়েছি, মানবিক মানুষ এমনি হয়,সবার মনে ঠাঁই করে নেন কথা এবং ব্যবহার দিয়ে। অনুষ্ঠানের সভাপতি মাননীয় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান দাপ্তরিক জরুরী কাজের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্হিত থাককে পারেননি । তাই সেক্ষেত্রে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রেভিনিউ) শ্রীমতি শাস্বতী শীল । রাতে যখন আমরা সার্কিড হাউসে ফিরে এলাম তখন মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান দাপ্তরিক কাজ শেষ করে এসে আমাদেরকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন । সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । একটি কথা না বললেই নয় । তাহলো অগ্নিবীণার সাধারন সম্পাদক জনাব তরিকুল ইসলামভাই তার বাড়িতে গতকাল দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন । সে কি এলাহী কান্ড তার আর কি বলবো ! বাড়িতে প্রবেশ করার পরেই দেখি প্রিয়তম জাতীয় কবির ছবি সুন্দর করে বাঁধিয়ে রেখেছেন, দেখেই ভাল লেগে গেলো।এরপর আমার সিড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠা ছিলো কষ্টসাধ্য, তবুও কিছুটা সময় নিয়েই উঠেছি।খাবারের আয়োজনে এতো রকমের খাবার তা লিখে শেষ করতে পারবো না, এর মাঝে আমার প্রিয় সব খাবার ছিলো । মানুষকে মানুষ এতো ভালোবাসতে পারে তা তরিকুল ভাই প্রমান করে দিলো ধন্যবাদ তরিকুলভাই । অনেকবার আমন্ত্রণ পেয়েও যেতে পারিনি। নড়াইল সফরে এতো এতো সম্মান পেয়েছি এর মূল উদ্যোক্তা গুরুজী এইচ এম সিরাজভাই আপনাকে সালাম ।

জন্ম মৃত্যু রিজিক সম্মান সব আল্লাহর হাতে।
কার রিজিক কোথায় হবে কেউ জানিনা।
সম্মান আর নড়াইল জেলা প্রশাসনের অসাধারণ আপ্যায়ন সারাজীবন মনে গেঁথে থালবে।

আজ সকাল ৭টায় নড়াইল থেকে রওয়ানা হয়ে সকাল ৯টায় মাত্র তিন ঘন্টায় পদ্মাসেতু পার হয়ে ঢাকায় ফিরেছি । আমার প্রিয় নেত্রীর প্রতি যতই কৃতজ্ঞতা জানাই তবুও যেনো কম হবে।পদ্মা সেতু আমাদের জন্য বিশাল এক অর্জন।

#প্রথম সংবাদ

- Advertisement -

সর্বশেষ সংবাদ