সাজেকে পিয়া মনি চাকমার পাশে আমেরিকা প্রবাসী প্যারিস চাকমা

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের উলুছড়া গ্রামের ছোট্ট এই মেয়েটির চোখে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। কথা-বার্তা নম্রতায় এক আদরণীয় বিন্দু যেন। তাকে ঘিরে পাহাড়ে নানা আলোচনা, ব্যাখ্যা, গল্প, মায়া ইত্যাদির জন্ম। সে মোবাইল পর্দায় আবিষ্কার হয়েছে নিজ সামর্থ্য শক্তি গুণে। কঠিন সংগ্রামের বাঁধ পেরিয়ে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় GPA-5 পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীর নাম পিয়া মনি। তার পিছনের গল্পটাকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টালে মনে হয় যেন, গোবরে পদ্মফুল। বাবাহীন মেধাবী স্বপ্নবাজ এই পিয়া মনির পড়াশুনার দায়িত্ব পাহাড়ের অনেক গুণী মানুষের কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে। এটা আমাদের পিয়ামনির জন্য বড় আশীর্বাদ। অবশেষে পিয়া মনির স্বপ্ন পূরণের জন্য পড়াশুনার দায়িত্ব ভাড় আমেরিকা প্রবাসী সমাজ চিন্তাবিদ শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই – Parish দার কাছে নির্ভিরতা হলো। কলেজ জীবন থেকে পিয়ামনির ক্যারিয়ার গঠনে নিজেকে অটল রাখবেন বলে কথা দিয়েছেন আমাদের প্রিয় প্যারিস দা। প্যারিস দার সু-নিপুন অাদর্শে ও চিন্তা-চেতনায় পিয়া মনি গড়ে উঠবে পাহাড়ের এক আলোকিত নক্ষত্র হয়ে। এটা শুধু প্যারিস দার দায়বদ্ধতা নয়, সামাজিক জীব হিসেবে এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।

. মায়াবী চেহারার মেধাবী এই হীরামনির স্বপ্ন, একদিন সে মেডিকেল পড়ে বড় ডাক্তার হবে। তাই তাকে কঠিন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হবে। তার জন্য দরকার আগাম প্রস্তুতি ও স্বপ্ন গঠনের শক্তিশালী ফাউন্ডেশন। গাছ শুধু লাগালে সঠিক ফল পাওয়া যায় না। এর জন্য দরকার প্রধান খাদ্য পানি, সাথে বিভিন্ন ভিটামিন জাতীয় পদার্থ ও সার, সঠিক পরিচর্যা। ঠিক এই পিয়া মনির স্বপ্ন পূরণের জন্য প্যারিস দা অর্থ সহযোগিতা দিলেও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে সঠিক পরামর্শ, ভালো মন্দ দেখাশুনা করা, সঠিক গাইড লাইন দিয়ে সহযোগিতা করা সহ পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন প্রয়োজনে হেল্প করার। তাই আজ সকালে পিয়া মনি ও তার মায়ের সাথে রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিসে দেখা হয়ে ভরসা দিয়েছি অন্তত আমরা আছি, চিন্তা করার কোন কারণ নেই। আলোচনা করেছি বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা সহ বিভিন্ন বিষয়ে। বাবা না থাকুক, পিয়া মনি তার সামর্থ্য শক্তির গুণে এখন শত শত অভিবাবক পেয়েছে। আমাদের পিয়া মনির স্বপ্ন পূরণের জন্য আশীর্বাদ রইল।

.প্যারিস চাকমা পাহাড়ের এক বিরল ব্যক্তি! বিদেশের মাটিতে তার সহবন্ধু,আত্মীয়রা যখন কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে ঘুমায় সে পড়ে আছে পাহাড়ের বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে। জানতে পারি সে নিরবে পাহাড়ের প্রায় ১৫-২০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজের মাসিক আয়কে বিলিয়ে দেন। সুযোগ পেলে পাহাড়কে নিয়ে লেখার বড় নেশা তার। তিনি বিশ্বাস করেন, পাহাড়ে যদি ২০ জন দরিদ্র মেধাবীদের ক্যারিয়ার গঠনের দায়িত্ব নিতে পারে পরবর্তিতে তারা একে একে ২০ জনের দায়িত্ব নিবে। আপসোস করে বলেন, বিদেশ ও পাহাড়ের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এক এক জনে এক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিতেন তাহলে পাহাড়ের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতির চিত্র বদলে যেত।

#প্রথম সংবাদ

- Advertisement -

সর্বশেষ সংবাদ