বিএসএমএমইউয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার ৯ জানুয়ারি ২০২৩ইং তারিখে সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ ডা. মিল্টন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে থেকে মুক্ত হয়ে বিদেশ থেকে ফোনে বঙ্গমাতার কাছে সর্বপ্রথম যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের খবর নিয়েছিলেন, এক ছাত্রলীগ নেতার খবর নিয়েছিলেন, পরে তিনি নিজ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। বঙ্গবন্ধু এমনই এক ব্যতিক্রমী মহান নেতা ছিলেন। তিনি মুক্ত হয়েই ভারতের মাটিতে অবস্থান করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্ধিরা গান্ধীর কাছে বাংলাদেশ থেকে ভারতের সৈন্য ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর সমগ্র জীবনে অভিষ্ঠ লক্ষ্য থেতে বিচ্যুত হননি। আমাদের মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’ একথাও আমাদের স্মরণে রাখতে হবে।

আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও নিটোরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন, বঙ্গবন্ধু চিকিৎসকদের যে কতটা ভালোবাসতেন তা বলে বুঝানো যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরেছিলেন বলেই বাঙালি জাতি বিজয়ের পূর্ণ আনন্দ পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলের সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই অন্ধকার থেকে দেশকে আবার আলোর পথে পরিচালিত করেন। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডালার। বাৎষরিক বাজেট ছয় লক্ষধিক কোটি টাকা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বাস্তায়ন হয়েছে। দারিদ্র্যসীমা ২০ শতাংশের মতো। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় রয়েছেন বলেই এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে । দেশরতœ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ যেমন নিরাপদ থাকবে তেমন উন্নয়নের ধারাও অব্যাহত থাকবে।

আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মনিরুজ্জামান খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম¥দ আলী আসগর মোড়ল, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সুরাইয়া বেগম, রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তপাদার, হল প্রোভোস্ট অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান, অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ প্রমুখসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল।

#প্রথম সংবাদ

- Advertisement -

সর্বশেষ সংবাদ