পেকুয়ায় অধ্যক্ষের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় অধ্যক্ষের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে রাত ৮ টার যে কোন সময়ের মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেকগুলদি এলাকায় চুরির এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানার ওসি ওমর হায়দারসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই দিন সন্ধ্যা মাগরিবের পর থেকে রাত ৮ টার মধ্যে সদর ইউনিয়নের সাবেকগুলদি এলাকায় ১ টি বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। আক্রান্ত হওয়া বাড়িটির মালিক ছিলেন পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রয়াত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম চৌধুরী। ওই দিন প্রয়াত রেজাউল করিমের স্ত্রী পেকুয়া সাবেকগুলদি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা নাছরিন খানম পিতার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পেকুয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ শিক্ষিকা সাবিনা নাসরিনের পিতা। ২৩ ডিসেম্বর টইটংয়ের রমিজপাড়ায় রমিজ উদ্দিন জামে মসজিদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক সভা ও দোয়া মাহফিলের জন্য বাড়তি আয়োজন করে থাকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে। পরের দিন ২৪ ডিসেম্বর মাহফিল উপলক্ষে পিতার বাড়িতে রমিজপাড়ায় গিয়েছিলেন শিক্ষিকা সাবিনা নাছরিন খানম। যাওয়ার সময় বাড়িটি দেখ ভালর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তেলিয়াকাটার আবু ছৈয়দের ছেলে মনিরুল ইসলামকে। বিল্ডিং বাড়িটি তালা বদ্ধ ছিল। ছাবি ছিল শিক্ষিকার নিয়ন্ত্রনে। তবে বসতবাড়ির পাশে আরেকটি ঘরে থাকতো কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম।
মাগরিবের পর থেকে রাত ৮ টার মধ্যে চোরের দল বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বসতবাড়ির প্রধান ফটকের লোহার দরজার দুটি তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাপড় ছোপড়সহ আনুমানিক ৬ লক্ষাধিক টাকা লুট করে। চুরির বিষয়টি কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বাড়ির মালিক শিক্ষিকা সাবিনা নাসরিন খানমকে জানিয়েছিলেন। এ সময় দ্রæত ওই নারী টইটংয়ের রমিজপাড়া পিতার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ছুটে আসে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ দু’দফা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ওসি ওমর হায়দার ও পরবর্তীতে এস,আই মফিজুর রহমানসহ পুলিশ ফোর্স সেখানে যান। কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম জানান, বাড়ির চাবি ছিল মালিকের হাতে। আমি দেখভাল করছিলাম। মাগরিবের পর আমি বাড়িতে গিয়েছিলাম ভাত খাওয়ার জন্য। রাত ৮ টার দিকে এসে দরজার তালা ভাঙ্গা দেখেছি। সাথে সাথে ঘরের মালিককে ফোনে বিষয়টি জানাই। শিক্ষিকা সাবিনা নাছরিন খানম জানান, আমার স্বামী আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ। তিনি ২০১৫ সালে মারা যান। আমার ৪ মেয়ে আছে। ছেলে নেই। বাড়িতে আমি থাকি। ওই দিন আমি পিতার বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িটি চুরি হয়ে যায়। নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ও সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও টইটং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন আহমদ জানান, আমি শুনে খুবই ব্যথিত হয়েছি। থানার আধা কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরনের চুরির ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। আমার মেয়েটি অনেকটা এতিমের মত। স্বামী মারা গেছে। ছেলে সন্তান নেই। ৪ জন মেয়ে সন্তান। এরই মধ্যে এ ধরনের অনাকাংখিত ঘটনা। আমি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আইনী সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। থানায় এজাহার দিতে বলেছেন। আমরা এজাহার পাঠাব। ইউএনও ম্যাডামকেও বিষয়টি জানিয়েছি। পেকুয়া থানার এস,আই মফিজুর রহমান জানান, এজাহার দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থার জন্য পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিক ও সজাগ থাকবে।

#প্রথম সংবাদ

- Advertisement -

সর্বশেষ সংবাদ