বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বেঁচে আছি, কিন্তু আমার মূল্যায়ন নেই : মালেক চিশতী

এই মানুষটি নিয়ে লিখতে গেলে লেখা শেষ হবে না তারপরেও লিখলাম। বলছি একজন ব্যক্তির কথা পঞ্চগড়ে যার রক্তে মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। সেই তরুণ বয়সে ছাত্র রাজনীতি থেকে তৃনমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে উঠা একজন মানুষ বারবার কারা-নির্যাতিত নেতা মোঃ আব্দুল মালেক চিশতীর কথা । তিনি দেবীগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের পতাকাতলে এসে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন । সে সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সহজ ছিলোনা। তখনকার কেউ কি জানতো, সেই তরুণ মেধাবী ছাত্র মালেক চিশতী একদিন ছাত্রলীগের মত সংগঠনের দায়িত্বে হাল ধরবে। তখন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নাম লেখান জনতার ভালোবাসায় স্থান করে নেওয়া আজকের দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী । সময়ের সাথে সাথে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করে পঞ্চগড় জেলার সবার মুখে পরিচিতি লাভ করেন- এই মানুষটি। রাজনীতি জীবনে ৬৯ এর গণঅভ্যস্থান পরবর্তীতে স্বাধীনতার যুদ্ধের পক্ষে বিভিন্নভাবে কার্যক্রম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার কারণে বহু হেস্ত নেস্ত হয়েছিল এবং পঞ্চগড় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এখনো মালেক চিশতির নামে তিন জায়গায় নাম লেখা আছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সেই ৭২ থেকে আমি দেখেছি আমাদের তখন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র মুজিব বাদী ছাত্র লীগ ছিল । তখন আমি মুজিব বাদি ছাত্রলীগের পেনেলে দেবীগঞ্জ হাইস্কুলের ভিপি ভোটে এবং আমার গোটা প্যানেল নিয়ে ভিপি ১৪ টা প্যানেলের মধ্যে ১২ টায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হই । তখন ভিপি ছিলাম পরবর্তী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হই । আজ আমার মূল্যায়ন নেই । শুধু ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগের রাজনীতি নয় সমাজের সাধারণ গরীব, দুঃখী মেহনতী মানুষের বিপদে আপদে ছুটেছি সব সময়। জনগনের আস্থা, বিশ্বাস আর ভালোবসা অর্জন করে নিয়েছেন নিজের যোগ্যতায়। নিজ প্রচেষ্টায় রাতদিন পরিশ্রম করে তৃনমূল থেকে উঠে আসা তরুণ ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়েছেন স্নেহ ভালোবাসা আর সঠিক দিকনির্দেশনা! নিজ পরিবারকে সময় না দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য বেশির ভাগ সময় রাজনীতিতে ব্যয় করেছেন। যখন থেকে জনগণের সেবা করাকে ইবাদত মনে করেছেন আর জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তখন থেকে সবাই মালিক চিশতীৱ আচার-আচরনে মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন। নেতার মত নয়, মালেক চিশতীকে বড় ভাইয়ের মত করে আগলে রেখেছেন সকল কর্মীকে। বড়দের সর্বদা করছেন সম্মান। সব শ্রেনী পেশার মানুষকে দেখেছেন এক নজরে, কৃষক শ্রমিক, দিনমজুর সবাইকে দিয়েছেন বুকে ঠাই।
রাজপথে নিজ অবস্থান থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । যখনি কারো বিপদ শুনেন ছুটে যান সবার আগে। ছাত্র জীবনে ঘটে জাওয়া কিছু ঘটনা। তখন ছিলো ছাত্রদের হাতে লিখা পোষ্টার- লিফলেটের সময়।
এর মাঝে ১৯৬৯ এ বঙ্গবন্ধুর পলাশবাড়ী সফর। তিনি খুব কাছ থেকে দেখতে পান বঙ্গবন্ধুকে।পারাপারের সময় সুযোগ ও হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর স্নেহের ছোঁয়া পাবার। এ যেন তার স্মৃতিতে তার ছাত্র রাজনীতির এক স্বীকৃতিস্বরূপ,এক অনন্য অনুপ্রেরণা। ১৯৭১ সালে সেই অনুপ্রেরণাই পৌঁছে দেয় তাকে গ্রেটার রংপুর জেলা ছাত্রলীগ পর্যন্ত।
কিন্তু তখনকার সময়ে ছাত্ররাজনীতি ছিল কষ্টের।অকারণে জেল-জুলুম সহ সামাজিকভাবে হেয় করা ছিল এক নিয়মিত বিষয়। এর-ই সূত্র ধরে তাকে যেতে হয় ৫ বার জেলে। শেষ করা হয় না আর ছাত্র জীবন। তখন তিনি কারমাইকেলের ছাত্র।
এ যেন বঙ্গবন্ধুর পথে তারই কর্মীর পদচিহ্ন অনুসরণ করা। এছাড়াও ভোররাতে পোস্টার লাগাতে গিয়ে পুলিশের কাছে তাড়া কিংবা কিছু সময় আটক রাখা,পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার নজির অসংখ্য তার জীবনে। তারপর বাঙালী জাতির জীবনে নেমে আসে কালো রাত। ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫। ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে নেওয়ার ছিল এক অপরাধ। সে সময়ে গোপনে গোপনে তিনি চালিয়ে যান ছাত্রলীগ সংগঠিত করার অভিযান। তারই স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দায়িত্ব পান উপজেলা ছাত্রলীগের “সভাপতি” হিসেবে। সে সময় এক দোকানকে বন্ধ রেখে তার ভিতরে গোপনে আয়োজন করেন বঙ্গবন্ধুসহ ‘৭৫এ নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাতের দোয়া। তারা ছিলেন ৬/৭ জন। কিন্তু বিপাক বাঁধে ইমামকে নিয়ে। কিছুতেই ইমাম বঙ্গবন্ধুর নাম নিবে না। কিন্তু কিছুটা চাপ প্রয়োগ করেই ইমামকে দিয়ে ইমাম সহ সেই ৬/৭ জন দোয়া শেষ করে। ‘৮০ এর শেষ পর্যন্ত তিনি স্ব-গৌরবে চালিয়ে যান তাঁর ছাত্র রাজনীতি। এবং ৭৫ এর পরে মুনাজাত করে রাব্বুল আলামিনের কাছে বঙ্গবন্ধু হত্যার যদি কোনদিন বাংলাদেশে বিচারের রায় হয় । তাহলে আমি ৫০০ ফকিরকে খাওয়াবো। সেই প্রতিশ্রুতিতে আমি এলাকায় এলাকায় মাইকিং করি ৫০০র বেশি ফকির এনে খাওয়াইছিলাম । পরবর্তীতে আওয়ামী যুবলীগ কে সংগঠিত করে এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে মনোনীত হন এবং ১৯৯০ সালে দেবিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এবং ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পযর্ন্ত তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। এরপরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হেরে যান নির্বাচনে
। আবার ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ি হয়। দিনশেষে সত্যের জয় আবার হবেই হবে, আবার রাজপথ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুর, স্লোগানে স্লোগানে পঞ্চগড় জেলা রাজপথ মুখরিত করবেন সেদিন, যেদিন পঞ্চগড় ২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পঞ্চগড় বাসি দেখবে সাবেক ছাত্রনেতা মালেক চিশতীকে । যোগ্য ও সঠিক নেতার মূল্যায়ন হোক একটাই দাবী। গোটা জেলার বাসীর হৃদয়ে ভালোবাসার স্থান করে নিয়েছেন সৎ সাহসী সাবেক ছাত্রনেতা মালেক চিশতী। আর এটাই একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ভালোবাসা রইলো সাবেক ছাত্রনেতা, বতর্মান দেবিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তিন বারের চেয়ারম্যান, জনগণের আস্থাভাজন ব্যাক্তি জনাব মো: মালেক চিশতী।

#প্রথম সংবাদ

- Advertisement -

সর্বশেষ সংবাদ