মাধবদীর চরদিঘলদী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

একক আধিপত্য বিস্তার, দলীয় নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করা, জন্মনিবন্ধন, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও বিধবা ভাতা প্রদানে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আঞ্চলিক দলের নামে চাঁদাবাজি করা সহ বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের নামে টাকা উত্তোলনের দায়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন শাহিনকে চরদিঘলদীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এলাকাবাসী।

দেলোয়ার চেয়ারম্যান দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করাসহ বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করে আসছে । এলাকাবাসী তার এসকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বুধবার (৭ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে চেয়ারম্যান শাহিনের নির্দেশে চরদিঘলদী ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেনের বাড়িতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ইউনুছের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন টেটা, বল্লম, চাইনিজ কুড়াল, রামদা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে দলমত নির্বিশেষে এলাকার সকলের সহযোগিতায় প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পিছু হটে। এসময় উভয় পক্ষের ৮/১০ জন গুরুতর জখম হয়। আহতরা নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির বরপুত্র দেলোয়ারের অপকর্মের বিরুদ্ধে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে তাকে চরদিঘলদীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। আর এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিন ধরে যারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন তারা এলাকায় ফিরতে শুরু করে। দেলোয়ার বাহিনীর অত্যাচারে যারা দীর্ঘ ২/৩ বৎসর ধরে এলাকা থেকে বিতাড়িত ছিলেন তাদের এলাকায় ফিরতে দেখে দেলোয়ার এবং তার অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর কয়েক হাজার পরিবার পুনরায় এলাকায় ফিরে আসায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকালে ইউনুছ বাহিনীর আক্রমণ পরে তাদের প্রতিপক্ষদের গ্রামে প্রত্যাবর্তন সব মিলিয়ে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ফলে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রকিবুজ্জামান সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থান নেন। এলাকাবাসীর সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতি যেন কোন ভাবেই সংঘাতের দিকে না যায় সে জন্য এলাকাবাসীকে সতর্ক করা সহ পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর পরিবার নিয়ে গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেন আব্দুছ ছালাম। তিনি বলেন, দোয়ানী বাজারে আমাদের ৩ শতাংশ জমি দেলোয়ার হোসেন শাহিন জোরপূর্বক দখল করে। আমরা এতে বাঁধা দেওয়ায় দেলোয়ার তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়ে এলাকাছাড়া করে। নিজের পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আড়াই বছর ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আজ বাড়ি ফিরতে পেরে ঈদের মতো মনে হচ্ছে।
আনিছ মিয়া বলেন, আমরা আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও দেলোয়ার তার বাহিনী দিয়ে জোর জুলুম করে আমাদেরকে গ্রাম ছাড়া করেছে। দীর্ঘ চব্বিশ মাস পর আমি আমার জন্মস্থানে ফিরতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। দলীয় কোন্দলের কারণে আর কাউকে যেন নিজের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে না হয় সেজন্য এলাকাবাসী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এসময় দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরতে পারায় তাৎক্ষণিকভাবে একটি সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কয়েক সহস্রাধিক এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
সকলের অংশগ্রহণে সম্প্রীতি সভাটি এলাকাবাসীর মিলন মেলায় পরিণত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেলোয়ার বাহিনী এলাকাবাসীর ৩ শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
তবে আমাদের কেউ যেন তাদের মতো আইন হাতে তুলে নিয়ে কারো বাড়িঘর ভাঙচুরতো দুরের কথা কারো বাড়িতে একটি আঁচড় ও না দেয়। দেলোয়ার এবং তার দোসরদের বিচার চরদিঘলদীর মাটিতেই হবে তবে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মিডিয়া কর্মী ভাইদের উপস্থিততে আইনগতভাবে করা হবে।
আমরা সহাবস্থান এবং শান্তিতে বিশ্বাসী। কারো প্ররোচনায় আমাদের প্রাণের চরদিঘলদী যেন কোনভাবেই অশান্ত না হয় সেদিকে সকলের খেয়াল রাখতে হবে।

#প্রথম সংবাদ

- Advertisement -

সর্বশেষ সংবাদ