শনিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২২
শনিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২২

হুজুগে বাঙালির বিশ্বাস অবিশ্বাস দুটোই ভয়ংকর

হুজুগে বাঙালির বিশ্বাস অবিশ্বাস দুটোই ভয়ংকর।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেটা হলো- বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সৌদি আরবের বিজয়ে মুসলিম সম্প্রদায় বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষ বেশি আত্মহারা, গদগদে বেশি আনন্দিত, বেশি উৎফুল্ল!

হুজুগে বাঙালি এতোই আনন্দিত যে, তাদের বলতে শোনা যাচ্ছে যে, এই বিজয় কালেমার বিজয়, এই বিজয় ইসলামের বিজয়, কালেমার পরাজয় হয় না আরও কত কি উন্মাদনা, আশ্চর্য! সারা জাহানে বাঙালি হলো সপ্তাশ্চর্য প্রাণী! আচ্ছা সৌদি আরব যদি বিশ্বকাপ জয় না করতে পারে তাহলে তখন তারা কি বলবে? তখন তো তাদের আবলতাবল কথার কারণে পুরো ইসলামটাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ছাড়বে!

এধরণের আরও বহু ইত্যাদি ইত্যাদি ধারণা যারা পোষণ করে বা যারা বিভিন্নভাবে অনলাইন মিডিয়ায় স্টাটাস দিয়েছে তারা নেহায়াতই বোকা মানুষ, তাদের কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই। আসলে ওরা শয়তানের দোসর, কেউ আবার খেলাধুলা নিয়ে হাদিসের উদ্ধৃতি দিচ্ছে, এটা হারাম না হালাল? কেউ বলছে খেলাধুলার আসরে কোরআন তেলওয়াত করা ঠিক হয়নি! ডাঃ জাকির নায়েক কেন গেল? ইত্যাদি ইত্যাদি যত্তসব আউল ফাউল টক শো! ওরা ভুলে গেছে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে আরবের তৎকালীন মক্কা নগরী ছিল নিষিদ্ধ ও পাপ কাজে পরিপূর্ণ একটি অন্ধকার ভূখণ্ড, যেখানে সত্যের ঠাঁই ছিল না, সত্যের বিলুপ্তি ঘটেছিল সেই জালিমদের কাছেই হারাম নগরীতে আল কোরআন নাযিল করে নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিন অন্ধকার দূর করেন, ঠিক তেমনি পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে বিচার বিবেচনায় হেকমত দ্বারা খেলার মাঠেও সত্যবাণী প্রচারের সুযোগ থাকলে কাজে লাগানো উচিত। বাথরুমে গেলেও কিন্তু আল্লাহ নাম সহ কিছু দোয়ার নিয়ম আছে তাহলে খেলার মাঠে কোরআন তেলওয়াত করা যাবে না এটা কে বলেছে? মাঝেমধ্যে আমার কাছে মনে হয় শয়তান বিনয়ের সাথে ছুটি নিয়েছে এবং বর্তমানে মানবরূপী শয়তান রাজত্ব করছে, তাই তো পদে পদে জনপদে দাজ্জাল ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব দেখতে পাচ্ছি।

কে আস্তিক আর কে নাস্তিক বুঝা মুশকিল! কে কোন পক্ষে, কে নিরপক্ষে বুঝা মুশকিল। সবাই যেন ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত। কখনও কখনও এরাই আবার মাজার শরীফ এবং পীর-মুরশিদদের পবিত্র কাবা’র চেয়ে অধিক মূল্যবান মনে করে, সাহাবী এবং নবীদের চেয়েও সৌভাগ্যবান, জ্ঞানী ও বড় মনে করে নিজের তথাকথিত লালসালু বাবাদের! এরা শেরেকি ও কুফরিতে লিপ্ত, এরা কথা মানে না, মনে হয় ওরা শরিয়ত হাকিকত মারেফাত তরিকতের বেলায়েত এবং খেলাফতপ্রাপ্ত! নামাজ আর সালাত নিয়ে দ্বন্দ্ব, হাত বাঁধা নিয়ে দ্বন্দ্ব, যে জাতি এখন পর্যন্ত সালাতের হাত বাঁধা শিখে নাই, দাঁড়ি টুপি এবং টাখনুর উপর কাপড় পড়া নিয়ে চলে তুলকালাম যুদ্ধ চলে সে জাতিকে দিয়ে দ্বীনের খেদমত অসম্ভব। উন্মাদ পাগলগুলা দলিল ছাড়াই বলে উদ্ভট সব কথাবার্তা, যা বুঝা মুশকিল!

অহেতুক তর্কবিতর্ক করে, তাই এদের এড়িয়ে চলাই উত্তম। তারা ইসলামের সৌন্দর্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মহান ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তারা বিতর্কিত স্টাটাস দিয়ে ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, মনে রাখতে হবে ইসলামকে হেয় করা মানে আল কোরআন, সৃষ্টিকর্তা এবং নবী মুহাম্মদকে হেয় করার নামান্তর। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে যে, অন্য কোনও ধর্ম এবং ধর্মাবলম্বীদের ছোট করা মানে নিজের ধর্মকে ছোট করা। অপরদিকে সুযোগ সন্ধানী কিছু ভণ্ড নামধারী শব্দ সন্ত্রাসী- উস্কানিদাতা ব্যক্তি পাল্টা স্টাটাস দিচ্ছে, প্রতিবাদের নামে নোংরামি খেলায় মত্ত, উভয়েই মানবতার জন্য চরম শত্রু এবং সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। আধুনিক যুগে এগুলো আমাদের শান্তি স্থিতি ও সভ্যতার জন্য ভয়ানক চ্যালেঞ্জ। কেউ ইসলামকে অতিরঞ্জিত করে কলুষিত করছে, দূষিত করছে পক্ষান্তরে কেউ বা ইসলামের সমালোচনা করতে গিয়ে, আল কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে, সৃষ্টিকর্তার এবং নবীদের অতি সুক্ষ্ম মস্তিষ্কে হেয় করছে এবং ছোট করে তারা বড় হতে চাচ্ছে, হায় রে বেয়াদব, হায় রে বেয়াক্কেল! যার পেটের ভিতর গু সে আবার সুগন্ধির কথা বলে! মরলে যাকে খাবে মাটি, ওরা বুঝে না ওরা কাহাকে দিচ্ছে ফাঁকি? কেউ বা বিজ্ঞানের কথা বলে অথচ আল কোরআন যে মহা বিজ্ঞানময় গ্রন্থ যা কি-না বিজ্ঞান আবিষ্কারের অনেক আগেই এসেছে, আল্লাহ প্রদত্ত সেই পবিত্র সংবিধানকেই অস্বীকার করে, কত্তবড় বেকুব!

আমার সৌভাগ্য আমি বাংলাদেশে জন্মেছিলাম তাই অনেক কিছুই জানতে পারলাম, অনেক কিছুই দেখতে পারলাম পাশাপাশি অনেক অনেক বিনোদন উপভোগ করেছি বিনামূল্যে! তবে হ্যাঁ কিছু ব্যক্তি ইসলামকে ভালোবেসে জ্ঞানের পরিচয় দিচ্ছে। সবাইকে সঠিক জ্ঞান দাও প্রভু, হেদায়েত দাও প্রভু। জেনে বুঝে যারা অবুঝের মতো আকাম-কুকাম করে তাদের হাত থেকে ধর্মদর্শনকে হেফাজত করুন, আমিন।

কলমে,, মোহাম্মদ শামসুল হক বাবু।।

সর্বশেষ সংবাদ