শনিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২২
শনিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২২

ছাত্রলীগের সম্মেলন: শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যারা

ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০ তম সম্মেলের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন, ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৮ ডিসেম্বর ৩০ তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি ২ বছর পর কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও ১ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিনের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকেই সর্বোচ্চ গঠনতন্ত্র মানে সংগঠনটি। তাঁর নির্দেশনাতেই ছাত্রলীগের ৩০ তম সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের নতুন সম্মেলনের খবরে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে জায়গা পেতে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণ পর্যায়সহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মধুর ক্যান্টিন এখন সরগরম। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়, ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয়, টিএসসি সহ সর্বত্র পদপ্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন ‘টক অবদ্যা টাউন’ ছাত্রলীগের সম্মেলন। প্রার্থীর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

সম্মেলন নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে একটি সফল সম্মেলন উপহার দিতে চাই। ইনশাল্লাহ যারা যোগ্য ও ত্যাগী তারাই নেতৃত্বে আসবে।’

গতবারের ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের একমাত্র অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরাসরি তত্ত্বাবধানে মনোনীত করা হবে, এই প্রত্যাশায় অন্যান্য বারের থেকে এবার প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। কারন তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচ্ছন্ন ইমেজ, মেধাবী, পরিশ্রমী ও ত্যাগী ছাত্রনেতারা মূল্যায়ন হবে বলে আশাবাদী পদপ্রত্যাশীরা। পদপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবরও নেয়া হচ্ছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতৃত্ব নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ইমেজ, মেধাবী, পরিশ্রমী, ত্যাগী ও পারিবারিক আওয়ামী রাজনৈতিক ঐতিহ্য প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের মূল গঠনতন্ত্রের বয়সমীসা ২৭। তবে ২৯তম জাতীয় সম্মেলন বিলম্ব হওয়ায় সংগঠনের সর্বোচ্চ গঠনতন্ত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২ বছর বর্ধিত করেন। এবারের সম্মেলনও ৪ বছর ৬ মাস পর হতে যাচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশীদের ধারনা এবারও বসয়সীমা পুনর্বিবেচনা করবেন সংগঠনের একমাত্র অভিভাবক।

শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যারা:
শেষ মূহুর্তে নেতৃত্বে আসার আলোচনায় শীর্ষে আছেন

উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক- সাদ্দাম হোসেন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক- আবু হাসনাত হিমেল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক- হায়দার মোহাম্মদ জিতু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- আব্দুল্লাহ হীল বারী, ক্রীড়া সম্পাদক -আল আমিন সিদ্দিক সুজন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সজীব নাথ, উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক আমির হামজা।

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক- সাদ বিন কাদের চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক – তাহসান আহমেদ রাসেল, সহ-সভাপতি- মাজহারুল ইসলাম শামীম, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক- তানবীর হাসান সৈকত, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক- আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন।

বৃহত্তর ফরিদপুর থেকে সহ-সভাপতি- রাকিব হোসেন, শেখ সাগর আহমেদ, সমাজসেবা সম্পাদক- শেখ স্বাধীন মোহাম্মদ শাহেদ, উপ-আইন সম্পাদক- শেখ সুজন, আইন সম্পাদক- ফুয়াদ হাসান শাহাদাত, উপ-আইন সম্পাদক- শাহেদ খান,

খুলনা অঞ্চল থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক- বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- নাহিদ হাসান শাহিন, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক- খন্দকার হাবিব আহসান।

বরিশাল অঞ্চল থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক- সোহানুর রহমান সোহান, সাংগঠনিক সম্পাদক- শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সহসভাপতি- সৈয়দ আরিফ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- ইমরান জমাদ্দার, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক- সবুর খান কলিন্স

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক- মেহেদী হাসান তাপস, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক- শেখ সাঈদ আনোয়ার সিজার, মোঃ রিপন মিয়া।

ঢাকা অঞ্চল থেকে উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক- এহসান উল্লাহ পিয়াল, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- শেখ শামীম তূর্য, উপ-দপ্তর সম্পাদক- আব্দুর রহিম সরকার।

এছাড়া নারী নেত্রীদের মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বে আসারও গুঞ্জন আছে। নারীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন তিলোত্তমা শিকদার ও ফরিদা পারভীন।

তবে বয়স সীমা বর্ধিত না হলে আলোচ্য প্রার্থীদের বড় একটি অংশই বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের একজন হলের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক থেকে আসার ধারাবাহিকতা আছে। এছাড়া কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও শীর্ষ নেতৃত্ব আসার নজির রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে শহীদুল হাসান শিশির (সভাপতি, মুহসিন হল), জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (সভাপতি, শহীদুল্লাহ হল), কামাল উদ্দিন রানা (সভাপতি, জহুরুল হক হল),
রফিকুল ইসলাম সবুজ (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ), সাদ্দাম হোসেন উদয় (সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি), আবু সায়েম মোঃ সানাউল্লাহ (সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাবি) হাসিবুল হাসান শান্ত (সাধারণ সম্পাদক, জিয়া হল), রিয়াজুল ইসলাম (সভাপতি, এফ রহমান হল), সজীবুর রহমান সজীব (সভাপতি, বিজয় একাত্তর হল), আবু ইউনুস (সা. সম্পাদক, বিজয় একাত্তর হল) প্রমুখ।

এছাড়াও অসংখ্য পদপ্রত্যাশী নিজেদের লবিং তদবিরে দৌঁড়-ঝাপ করছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সংবাদ