যখন ছিলাম আমি-
আঠারো বছরের টগবগে যুবক;
দূরন্ত ষাঁড়ের কপালে দিয়েছি তিলক।
কত বাধা বিপত্তি
পাড়া পরশির আপত্তি
উপেক্ষা করেছি নিরবধি,
প্রাধান্য দিয়েছি নিজের আবেগ!!
হার মানা না মানা
কী আসে যায়?
শত নিরুপায়
হয়েও আকাশ ছুঁয়েছি
স্বপ্ন দেখেছি,
যত বাধা বিপত্তি তৃপ্তি নিয়ে
উপেক্ষা করেছি!!
ভয়হীন নির্ভয় দেহটাকে শাষণ করেছি যত
উপেক্ষা করেছি তত শতগুণ।
যারা করেছে অবজ্ঞা যত,
দেখিয়েছি তারে নিজের বীরত্ব তত।
মাথা নত ছিলো শুধু তাদের তরে,
ভালোবাসা দিয়ে যারা কিনেছিলো তখন আমারে।
নিয়ম না মানা ছোটো এই জীবনে,
এসে ভর করেছে যত বাধা
তার সবই যেন নিষ্ঠুরতর এই পেশা।
বিচ্ছেদ রেখা দিয়েছে টেনে
দূরন্ত সেই স্বপ্নময়ী বালকের মাঝে,
নো ফ্লাই জোন সীমা রেখার মত।
জেলেদের তরীতে চেপে নিশিতে
জলে বিলে যাওয়া মানা।
সেই এক তুমুল কাণ্ড
জীবনটায় লণ্ডভণ্ড,
মৎস্য অফিসারের নির্দেশ শুনে।
বন্ধ বিলে,এত রাতে
আমি কেন জলে?
কেনো মতে মাপ সাপ চেয়ে
ফিরে এসে,
আর না যাওয়ার
করিলাম পণ।
দীর্ঘ সময় পেশার ভারে
হাফ ছেড়ে বাঁচিবার তরে,
পাড়ি জমালাম পাহাড় দেশে।
তবু নিস্তার পায়নিকো—–
চিম্বুক আর নীলগিরির বুকে।
পেশাজীবি আর পেশার সৌন্দর্যের ভীড়ে
তাড়া করে ফিরে
যেন পুরোনো স্মৃতি কোনো
পিছু নাহি ছাড়ে।
তবু বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করেছি,
সাধ্যে কুলিয়েছে যত।
ভয়হীন হৃদয়ের তরে প্রশ্ন রেখেছি,
সম্মানের হানি হবে না-তো?
তীব্র ঘন কুয়াশায়
আগুনের শরীরের স্বাদ পেতে
ক্লান্ত পথিকের পাশে বসে
নৈসর্গিক সুখে তৃপ্ত হওয়া
আমার কী-তা শোভা পায়?
প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়াদের কাছে
প্রশ্ন রেখে যায়-
তবে কী সৃষ্টির সৌন্দর্য সম্ভোগে
যত বাধা
তার সবটাই মহান এই পেশা??

