প্রতিদিন এতিমদের সাথে ইফতার করেন সাবেক মেয়র মনজুর আলম

Link Copied!

এতিমখানার পিতৃহীন অনেক শিশু জানেই না সে কখন কোন বয়সে তাঁর পিতাকে হারিয়েছে। আর পিতৃহীন শিশুর মাও অকালে মাথার ছাদ হারিয়ে জীবনের টানাপড়নে পড়ে যান। অনেক সময় অভিভাবকহীন এসব পরিবারের শিশুরা জীবনের ছন্দ হারিয়ে দিক খোঁজে পায় না। স্বামী হারা শিশুর মা-ও কোনো কূলকিনারা খোঁজে না পেয়ে এবং ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এক সময় এতিমখানাকে উপযোগী মনে করেন।

আর দেশে এখন প্রত্যেকটি এতিমখানার সাথে গড়ে উঠেছে হাফেজিয়া মাদ্রাসা। ধীরে ধীরে কয়েক বছরের মধ্যে এই এতিম শিশুগুলো এক সময় বের হয় ত্রিশ পারা কুরআন বুকে ধারণ করে পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হিসেবে।
এভাবে পরবর্তীকালে এসব শিশুরা মাদ্রাসা লাইনে লেখা পড়া করে আরো বেশি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের খেদমতে নিয়োজিত থাকে। উপকৃত হয় ধর্মীয় সমাজ ও পরবর্তী প্রজন্ম।
দেশে এতিম বা অসহায় শিশুদের অল্প বয়সে কম সময়ের মধ্যে এর বাইরে অন্য কোনো শিক্ষার মাধ্যমে এসব শিশুদের গড়ে তোলা বা স্বনির্ভর করার জন্য এখনো তেমন কোনো উপযোগী পন্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। টেকনিক্যাল লাইনে কিছু পদ্ধতি থাকলেও তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে শিশুকে লেসান দেয়া কিছুটা জটিল।
আর এই এতিম ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুদের সাথে
পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রতি বছরের মত এ-বছরও ১ রমজান থেকে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের নিয়মিত ইফতার কার্যক্রম। প্রতিদিন কাট্টলীর নিজ বাড়িতে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিশুদের সাথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতার করেন মনজুর আলম। এই কার্যক্রম চলবে ৩০ রমজান পযর্ন্ত।
ইফতার শেষে উপহার হিসেবে দেয়া হয় প্রত্যেক শিশুকে ঈদের নতুন জামা। এসব পেয়ে শিশুরা আনন্দে আত্মহারা। ভেসে উঠে তাদের চোখে মুখে খুশির ছাপ।
এরি ধারাবাহিকতায় ১ রমজান নগরির কোতোয়ালীর তানজিমুল মুসলিমিন এতিমখানা ও হেফজখানা, ২ রমজান দেওয়ানহাট সুলতান আহমদ দেওয়ান এতিমখানা ও হেফজখানার শিশুদের ইফতার ও তাদেরকে ঈদের নতুন পোষাক প্রদান করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মনজুর আলম বলেন, ‘নগরজুড়ে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ৪১ টি ওয়ার্ডে সেহেরী ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ ছাড়াও প্রতিদিন আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা এতিমদের সাথে ইফতার করতে সাচ্ছন্দবোধ করি। আমাদের এ কার্যক্রম প্রতি বছর অব্যাহত থাকবে।’