বরগুনায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

Link Copied!

বরগুনা বামনা উপজেলায় নিজের চার বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এঘটনা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা ইউনুস খানকে(৩৫) আজ সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত ইউনুস খান বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ঘোলাঘাটা গ্রামের সুলতান খানের ছেলে।

জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষের দিকে নিজ বাড়িতে প্রথমবার মেয়েকে ধর্ষণ করে ইউসুফ। তখন তার মেয়ের বয়স ছিলো ২ বছর। ঘটনা জানার পরে তার স্ত্রীর তাসলিমা তার মেয়েকে নিয়ে বামনার ছোনবুনিয়া আবাসনে আলাদাভাবে থাকা শুরু করেন।

পরে নিজের ভুল স্বিকার করে তাসলিমার সাথে ওই আবাসনে থাকতে শুরু করেন। এরপর গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবারও তার শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এতে শিশুটির যৌনাঙ্গে গুরুতর জখম ও রক্তক্ষরণ হয়। শিশুটিকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বরিশালে ৬ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পরে গত ৩১ মার্চ) মেয়েকে নিয়ে বামনায় আসে। এরপর শনিবার (২ এপ্রিল) রাতে আবারও অসুস্থ হয়ে পরে মেয়েটি। এরপর গতকাল (৩ এপ্রিল) সকালে মেয়েকে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায় তার মা তাসলিমা। এরপর আজ পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে জানালে ও বামনা থানায় অভিযোগ করলে সন্ধ্যায় বামনার গোলাঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পিতা ইউসুফ খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী ২ বছর বয়স থেকে লাগাতার আমার মেয়েকে ধর্ষণ ও যৌণ হয়রানী করে আসছে। আমি শশুরবাড়ির লোকদের বিষয়টি জানালে তারা বলে তাদের ছেলে নাকি পাগল। উল্টো তারা আমাকে নষ্টা বলে।

ঘটনার এতদিন পর অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়ে বেচে থাকলে তাকে বিয়ে দিতে হবে৷ তাই লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি। কিন্তু এখন ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে আমার। আল্লাহ যেন এমন স্বামী আর এমন বাবা আর কাউকে না দেয়।

এবিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশিরুল আলম বলেন, নিজের চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সন্ধ্যায় ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আগামীকাল তাকে আদালতে পাঠানো হতে।