ঢাকামঙ্গলবার , ১১ জানুয়ারি ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য
  9. জাতীয়
  10. তথ্য ও প্রযুক্তি
  11. প্রবাস বাংলা
  12. বিনোদন
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওয়ান ইলেভেনের ১৫ বছর আজ

সহ- ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
জানুয়ারি ১১, ২০২২ ৮:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমি ও আমার পরিবার তখন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামিত্তা ইউনিয়ন পরিষদের পাসেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকি। আমার বাবা ও বড় মামা এই এলাকাটিতে কয়েক কিঃমিঃ সড়ক ও বেশ কয়েকটি কালভার্ট নির্মানের সরকারী ঠিকাদারির কন্ট্রাক্টার ছিলেন। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার পুরো এলাকা জুড়েই থমথমে পরিবেশ।
বিএনপি-জামায়াতের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা।
বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিডিআরসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনা সদর সপ্তরে বৈঠক করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ।
সন্ধারদিকে তৎকালীন রাস্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশে জরুরী অবস্থা জারি করেন। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হটাত প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসী আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাবা তখন বাসায় ছিলেন না। লেবারদের অনেক টাকা বিল বকেয়া হওয়ায় সিংগাইরে টাকা তুলতে গেছেন। বিষয়টি বাবা ও মামাকে অবগত করার পরই স্থানীয় থানা পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। রাতে বাবা বাসায় আসার সাথে সাথেই জানান সকালের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। অন্যথায় সেখানে অনেক সমস্যা হবে। এরই মধ্যে বাবার পূর্বের চাকরিটিও চলে যায়। বড় মামার সাথে আলাপ করলে তিনি কিছু টাকা হাতে দিয়ে জানান, আগে কোন রকম জান বাচাও পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। ওয়ান ইলেভেনে আমাদের সাথে এমন ঘটনার কারনটিই ছিল আমার বাবা আওয়ামীলিগ সমর্থিত এবং বড় মামা ছিলেন বিএনপি সমর্থিত। এরই মধ্যে আবার সরকারী ঠিকাদারি কাজ আমরা। ভোর হবার সাথে সাথে কোটি টাকার প্রজেক্ট ফেলে রেখেই সেখান থেকে আমরা ঢাকায় চলে আসি। বড় মামা চলে যান বরিশালে। কয়েকদিন পর খোঁজ নিয়ে জানতে পাড়ি পুরো প্রজেক্টের কাজ সিস করেছে তৎকালীন প্রশাসন। এর কয়েকদিন পড়েই সেই কাজটি পেয়েছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।
আমাদের কাছে দায়িত্ব থাকাকালিন সময়ে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। কোন ধরনের দুর্নীতি না পেলেও মামা ও বাবাকে থানায় আটক করার ইঙ্গিত দিয়েছিল স্থানীয় তৎকালীন প্রশাসন।
আলোর মুখ দেখার আগেই নিভিয়ে দেয়া হয়েছিল প্রদীপ। বিশাল সেই প্রজেক্টে আমাদের ক্ষতির পরিমান ছিল অনেক। যার রেস এখন পর্যন্ত কিছুটা টের পাচ্ছি। সেই এলাকায় রাস্তা হয়েছে ঠিকই তবে ১৫ বছরেও এখন কাদামাটি খানাখন্দ। (সংক্ষিপ্ত)