ঢাকাসোমবার , ২০ ডিসেম্বর ২০২১
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য
  9. জাতীয়
  10. তথ্য ও প্রযুক্তি
  11. প্রবাস বাংলা
  12. বিনোদন
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাপাহারে হলুদের মাঝে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

মনিরুল ইসলাম। সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি।।
ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ২:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আদিগন্ত মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ। মাঠের দিকে তাকালে চোখ ফেরাতেই মন চায় না। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। যেন বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের হলুদ স্বপ্ন। এমনটাই নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়ে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার মাঠগুলোতে। চলতি বছরে আবহাওয়া ভালো থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন এলাকার সরিষাচাষীরা।
বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত এই উপজেলার মাটির গুণগত মান ভালো হবার ফলে সব ধরণের কৃষিপণ্য উৎপদন হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো রবি মৌসুমের কৃষিপণ্য সরিষা। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার প্রায় সবগুলো সরিষাক্ষেতে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। গাছে ফুটতে শুরু করেছে সরিষাবীজ। অধিকাংশ সরিষাক্ষেতে বীজ আসতে শুরু করেছে। দখিনা বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষা ফুল ও তরতাজা বীজগুলো। যাতে করে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সরিষা চাষিরা। অধিক ফলন ও মুনাফার আশায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
সরেজমিনে উপজেলার সর্ববৃহৎ সরিষাক্ষেত হাঁপানিয়া ও কৃষ্ণসদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুনর্ভবা নদীর অববাহিকায় সীমান্তজুড়ে চোখ ধাঁধানো হলুদের সমারোহ। চারিদিকে গুণগুনিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছির দল। এখনো পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকার ফলে এবছরে সরিষার গাছ রোগবালাইমুক্ত রয়েছে।
উপজেলার কৃষ্ণসদা গ্রামের সরিষাচাষী ভাদু বলেন, চলতি বছরে আমি ২০বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। গত বছরে আবহাওয়া ভালো ছিলো। তুলনামূলকভাবে দামও ভালো পেয়েছি। যার ফলে এবছরে আবারো সরিষা চাষ করছি।
উপজেলার বেলডাঙ্গা গ্রামের সরিষাচাষী মজিবর বলেন, এই বছরে আমি ১৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো আছে। কোনরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সরিষার বাম্পার ফলন হবার সম্ভাবনা আছে। বাজারদর ভালো থাকলে এবছরে অধিক লাভ হবার সম্ভাবনা আছে।
আলাদীপুর গ্রামের সরিষাচাষী জলিল মন্ডলের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত বছরে সরিষা চাষ করে ভালো লাভবান হবার ফলে এই বছরেও ১০বিঘা সরিষার আবাদ করেছি। মাটির গুণগত মান ভালো ও আবহাওয়া পক্ষে থাকায় এখনো পর্যন্ত সরিষার কোন রোগ বালাই দেখা দেয়নি। বরাবররে মতোই কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ও নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরিষার আবাদ করছি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন ও ভালো লাভের সম্ভাবনা আছে।

গোয়ালা ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার প্রামানিক বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে আমি কৃষকদের সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করছি। সময়মত বালাইনাশক ও সার প্রয়োগের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মজিবুর রহমান বলেন, চলতি বছরে এই উপজেলায় মোট ৩হাজার ৬শ ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে দেড় মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪শ ১৫ মেট্রিক টন। ভালো ফলনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সরিষাচাষীদের সব ধরণের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও সরিষাচাষীদের সরকারী প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।
সরকারী প্রণোদনা পাওয়ায় ও সরিষার ফলন ভালো হবার ফলে এই উপজেলায় ক্রমান্বয়ে সরিষা চাষ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতেও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এলাকার অনেক সরিষাচাষী।