ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ আগস্ট ২০২১
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য
  9. জাতীয়
  10. তথ্য ও প্রযুক্তি
  11. প্রবাস বাংলা
  12. বিনোদন
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একজন নির্লোভী, নিঃস্বার্থবাদী, নিরাহংকারী ক্রীড়া সংগঠক কোকো

সহ- ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আগস্ট ১২, ২০২১ ৪:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আরাফাত রহমান কোকো স্বাধীনতার ঘোষক সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র। তিনি কোকো নামেই অধিক পরিচিত ছিল।

তিনি ২০০২-২০০৫ সনে ছিলেন একজন সফল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিসিবির গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া ক্রীড়া সংঘ ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান। যুক্ত ছিলেন সিটি ক্লাবের সাথে এবং বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত ছিলেন। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম মিরপুর ও বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম এর রুপকার ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।

আরাফাত রহমানের জন্ম ও বেড়ে উঠা:
আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১২ই আগষ্ট ১৯৬৯ সালে কুমিল্লা পুর্ব পাকিস্তান। শিক্ষা জীবনে ঢাকার বি এফ শাহীন কলেজে লেখাপড়া করেন, পরবর্তীতে তিনি অষ্টিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন।

কোকো পরিবার সহ প্রথম গ্রেপ্তার হন ১৯৭১সালের ২রা জুলাই পাকিস্তান সরকারের হাতে। তার বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত ছিলেন পরে সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসায় থাকাকালিন পাক সেনারা মা বেগম খালেদা জিয়া, বড় ভাই তারেক রহমান সহ আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দি করে। তাঁরা ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি থাকার পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৬ই ডিসেম্বর মা-ভাইসহ তিনি মুক্তি পান।

ব্যক্তি জীবনে বাবা জিয়াউর রহমান সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান ও রাষ্ট্রপতি, মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, এবং বড় ভাই তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন অনেকটা পর্দার আড়ালে। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষতা তার ছিল না। ব্যবসা বাণিজ্যসহ সামাজিক কর্মকান্ডেই সময় ব্যয় করতেন তিনি।

আরাফাত রহমান কোকো দ্বিতীয় বার গ্রেপ্তার হন ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসে জিয়া পরিবারের উপর নিয়ে আসে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্র মুলক রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের খড়গ। ২০০৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করেন। সেনা সমর্থিত সরকারের অমানুষিক নির্যাতনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয় তাকে।

২০০৮ সালের ১৭ই জুলাই চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে স্বপরিবারে থাইল্যান্ড ব্যাংককে যান আরাফাত রহমান কোকো। এরপর চিকিৎসা শেষে তিনি মালয়েশিয়াতে চলে যান এবং সেখানেই স্বপরিবারে বসবাস করতে।

২০১২ সালে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে গেলে সেখানে কোকোর সাথে সিঙ্গাপুরে সাক্ষাত করেন তিনি। সবশেষ ২০১৪ সালে সৌদি আরবে জিয়া পরিবার একত্রিত হলেও আসতে পারেননি আরাফাত রহমান কোকো।

জরুরি অবস্থার সেনা সমর্থিত সরকারের সময় দেশের অন্যান্য ব্যাবসায়ীদের মতো তিনিও হয়রানির শিকার হন। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাতটি হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি চাঁদাবাজির মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপের মামলায় ভাইয়ের (তারেক রহমান) সঙ্গে এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকেও আসামি করা হয়।

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে কাফরুল থানায় আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১১ সালের ২৩ জুন এ মামলার রায় হয়। মামলায় পলাতক দেখিয়ে কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
কোকোর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১০ সালের ১ মার্চ আরেকটি মামলা করে এনবিআর।

পারিবারিক জীবনে আরাফাত রহমান কোকোর মা বেগম খালেদা জিয়া, বড় ভাই তারেক রহমান, স্ত্রী শর্মিলী রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান রয়েছে। মেয়েরা বর্তমানে তার মায়ের সঙ্গে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন। আরাফাত রহমান কোকো প্রায় সাত বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করেন।

ক্রীড়াঙ্গনে আরাফাত রহমান কোকো ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সালে ক্রিকেট কে জনপ্রিয় খেলা ও বাংলাদেশকে শক্তিশালী দল হিসাবে গঠন করেন। কোন খেলোয়াড় কে দল, পরিচিত, আত্বীয়, নিজ এলাকার এভাবে সিলেকশন করেননি। যোগ্য ও সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড়কেই নির্বাচিত করেছেন। তার সময়েই ক্রিকেটের উন্নতি যা এখনও কোন খেলোয়াড় অস্বীকার করতে পারে না।

আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে অসুস্থ ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। তিনি ২৪ শে জানুয়ারী ২০১৫ সালে ৪৫ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন। ২৪ জানুয়ারি -২০১৫ শনিবার তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে সমাধিত করা হয় বনানী কবর স্থান ঢাকা।

আরাফাত রহমান কোকোর গ্রেপ্তারের খবর তারেক রহমান টেলিভিশন দেখার আগেই বন্দিদের কাছে জানেন। আদরের স্নেহের বন্ধুত্বের ছোট ভাই গ্রেফতারে তিনি মারাত্মকভাবে আঘাত পান। দুই ভাই ছিলেন পিঠাপিঠি খেলার সাথী। স্কুলে, খেলাধুলায় ছিল জমজের মত। আব্বা-আম্মার কাছে অনুযোগ অভিযোগ-দাবি একত্রেই করতেন। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সংবাদে তারেক রহমান শোকে প্রায় পাথর হয়ে যান, চুপ করে থাকেন। পরক্ষনে তাঁর অন্তর্ভেদী হাহাকার, বুকফাটা কান্না। প্রিয় ভাইটির কথা মনে হলেই তাঁর অন্তর এখনো গুমরে কেঁদে ওঠে, দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, নীরবে ও গোপনে অশ্রুপাত করেন।

ডক্টর কাজী মনিরুজ্জামান মনির
সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপদেষ্টা বাগেরহাট জেলা বিএনপি