সিএনজি অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার চালকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা

মোহাম্মদ ইকবাল হোসাঈন :

ঝগড়া কইরেন না। ভাড়া এখন আগের নিয়মে নাই। ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ী চালাতে কষ্ট হয়, আগের ভাড়ায় পোষায় না। গেলে চলেন না গেলে নাইমা যান। সিএনজি অটোরিকশাচালক আরিফ অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই কথাগুলো বললেন।
অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অনেককে মাঝ পথে নামিয়ে দেওয়ার হুমকীও দেন চালকরা। সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী থেকে কাশ্মির বাজার রোড়ে এই ভাবে সিএনজি অটোরিক্সা ও অটো থ্রি হুইলার চালকদের কাজে জিম্মি সাধারন যাত্রীরা।

সিএনজিচালকদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা বলে আরিফের মতো একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে অনেকের কাছে। এখন এই রোড়ে চালকদের ইচ্ছে অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশা চলছে। করোনার পূর্ববর্তী সময়ে প্রশাসনের নির্দেশক্রমে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্ধারিত ভাড়া অনুয়ায়ী এই সড়কের সোনাগাজী থেকে কাশ্মির বাজার পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ১০ টাকা। মহেশ্চর, বাখরিয়া পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ৫টাকা। বিজয় নগর পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ১০টাকা। এবং সোনাগাজী থেকে কারামতিয়া পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিলো ২০টাকা। এই ভাড়া করোনাকালীন সময়ে দ্বিগুণ নেওয়া হয়েছিলো। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যেক স্থানে সরকারের নির্দেশনায় করোনার পূর্ব ভাড়া আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও এই সড়কে এখনো নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া।

যাত্রীদের অভিযোগে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে চালকদের সতর্ককরে আসলেও প্রশাসনের সতর্কতার তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়ত জিম্মি করে ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছে। মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ যেন চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধিরের ভূমিকায় রয়েছে।

গাড়ীর চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রী কম থাকা ও রাস্তায় খানা-খন্দক হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে তারা। একাধিক যাত্রীরা জানান, করোনায় আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় যেখানে পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে সেখানে প্রতিদিনকার ভাড়তি ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

গণপরিবহনে সংকট দেখা দিলে সিএনজি অটোরিকশা ও অটো থ্রি হুইলার চালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। অর্থাৎ যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশার ও অটো থ্রি হুইলার চালকদের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। হৃদয় নামে এক যাত্রী জানান, মহেশ্চর থেকে তিনি সিএনজিতে ব্যবসার কাছে প্রতিদিন কয়েকবার যাতায়াত করেন। প্রতিবারই তিনি দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করেন। ভাড়া কম দিতে চাইলে চালক তাকে কটুকথা বলে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে বাধ্য করেন। ভাড়ার এই নৈরাজ্য নিয়ে বেশ কয়েকবার রাস্তায় লাইনম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু লাইনম্যান কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে হৃদয় অভিযোগ করেন। রাস্তায় সিএনজি অটোরকিশার অনিয়মের ব্যাপারে স্থানীয় লাইনম্যান জসিম জানান, যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নকে অবগত করেছেন তিনি।

সোনাগাজী উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সোনাগাজীর প্রত্যেকটি রোড়ে করোনার পূর্ববর্তী ভাড়া নেওয়ার জন্য আমরা সকল চালককে অনুরোধ করেছি। এর পরেও দুই একটা যায়গায় হয়তো লোভী কিছু ড্রাইভার দ্বিগুণ ভাড়া নিয়ে থাকে। আমরা শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ সোনাগাজী কাশ্মির বাজার সড়কের দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।