পুলিশি ঈদ – এমএ মোত্তালেব হোসেন। প্রথম সংবাদ।।

- Advertisement -

♥♥♠♠♥♥♠♠♥♥♠♠

চলমান এই শতাব্দীর একেবারেই সূচনা লগ্নে অর্থাৎ ০১/০১/০১ খ্রীঃ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করার পর থেকে এই সমাজেরই আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা মানুষটার শরীরে জড়িয়েছি দেশসেবার অনন্য প্রতীক আমার ভালোবাসার সেই বহুল কাঙ্খিত পুলিশ ইউনিফর্মটি।

শুধু ইউনিফর্মটাই যে শরীরে জড়িয়েছি তা কিন্তু নয়; বড় ছেলে হিসেবে মনে গেঁথেছি পরিবারের অন্য সবার সাবলম্বী হওয়ার অন্তহীন ভাবনায় স্বপ্নবাজ এ আমি।

প্রথম পোস্টিংটায় পুলকিত হয়ে যোগদান করলাম কবিতায় পড়া বনলতার নীড়ে(নাটোর)। নব উদ্যমে নতুন স্বপ্নের হাতছানির পানে।

নতুন চাকরিতে নতুন ইউনিটে কিছুদিন পরই এলো প্রথম চাকুরীকালীন কোরবানির ঈদ। পরিবারের বাইরে জীবনের প্রথম ঈদ ছিল এটি। প্রথম প্রথম আশাবাদী ছিলাম যে বাড়িতে হয়তো যেতে পারবো। কিন্তু বাস্তবতা দৃষ্টে আশায় গুড়েবালি। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসে বাড়িতে ঈদ করতে যেতে পারবোনা ভেবে মনটা ততো বেশী ভাবাক্রান্ত হয়ে আসছে কেন জানি আপনা আপনি।
পরিবার ছাড়া আসলে ঈদ বলতে যা বুঝি তা কার কাছে কেমন জানিনা তবে আমার কাছে নিজেকে স্ট্যাচুর মতো নির্বোধ মনে হয়। এই কষ্ট সামলাতে পারিনি। ব্যারাকে বিছানায় শুয়ে চোখের ওপর গামছা রেখে,বালিশে মুখ লুকিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেছি।
আস্তে আস্তে নিজেকে প্রবোধ দিয়ে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি। নিভৃতে বিসর্জন দিয়েছি আপন সত্ত্বাকে।
বিশ বছরের চাকরিতে এরকম কত ঈদ গেছে চোখের পানিতে তা কাউকে বুঝতে দেইনি। বাবা-মা শুনলে কষ্ট পাবে ভেবে কত সত্য গোপন করেছি আত্মপ্রতারক হয়ে। এখনকার অবস্থা জানিনা তবে তখন পুলিশ মেসে এক বেলা হাক ডাকে আয়োজন হলেও বাকী সময় যথা তথাস্ত।
ঈদ এলেই পুলিশে এমন ক্রাইসিস শুরু হয় যেন ছুটি পাওয়া সোনার হরিণ পাওয়া তুল্য। দেড় যুগের অধিককালের চাকরিতে যতদূর মনে পড়ে দুটো কোরবানির ঈদ সম্ভবত পেয়েছি পরিবারের সদস্যদের সাথে করতে। যতবার ঈদ আসে ততোবার মনের কিনার ভাঙ্গতে থাকে। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন কষ্ট পাবার মতো মন বলে আর কিছু নেই। শুধুই বালুচর। এখন এমন হয়েছে যে ঈদ আসার আগেই ধরে নেই ছুটি যাওয়া হবেনা। ব্যস, কষ্ট আর কাছে ভিড়তে পারবেনা। তবে নতুন পুলিশ সদস্যদের এই ক্ষেত্রে কষ্টের মাত্রাটা একটু বেশীই থাকে। তা সহকর্মীদের কাছ থেকেও জানতে পারি।

ঈদের দিনেও দেশের প্রয়োজনে এমনও কঠিন পরিস্থিতির ডিউটি করতে হয়েছে তখন মনে হতো আসলে পুলিশের মন বলে কিছু থাকা উচিত নয়।
আর পুলিশ যে একটু কঠোর বা কঠিন মানসিকতার হয়ে থাক আমার কাছে মনে হয় তা এসব কারণেও কিছুটা প্রভাবিত হয়।

ঈদের সময় আল্লাহ মাফ করুক পুলিশের যেন কোনো নিকটাত্মীয় না মারা যায়! প্রথমত ডিপার্টমেন্টকে সে মৃত্যু বিশ্বাস করানো এক জটিল অংক তার ওপর কত জায়গার যে অনুমতি এ আছে তো সে নাই সে আছে তো পরে এমন করতে করতে শোকই উবে যাবার উপক্রম!
রাস্তাঘাটে ঈদের সময়ে দায়িত্ব পালন কালে সাধারণ সবার বাড়ি যাওয়া দেখলে মনে হয় জগতের সব থেকে অধম আমাদের চেয়ে আর কেউ নেই। একটা ফকির হোক তারপরও সে একটা সোনালী বা ব্রয়লার মুরগী কিনেও পরিবারের সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে তাতে যে পরিতৃপ্তি তা অতুলনীয়। অথচ পুলিশ শুধুই দর্শক!
দেশপ্রেমিক হতে হলে তো আত্মবিসর্জন দিতে হয়। সেজন্য একেকটা ঈদ মানে পুলিশ সদস্যদের আত্মবিসর্জন। বেদনার পিত ছিদ্র হয়ে যাওয়া। পুলিশকে মানবিক হবার কথা যারা বলে বলে মুখে ফেনা তোলেন তারা কিন্তু একবারও বলেন না যে আগে পুলিশের প্রতি মানবিক হওয়া প্রয়োজন। আমি যদি মানবতা বিবর্জিত পরিবেশে বেড়ে উঠি তাহলে কি করে আমার ভেতর মানবতাবোধ জাগবে??
হ্যা, তার মানে এই নয় যে পুলিশ মানবিক নয়! পুলিশ সদস্যরা এতো কিছুর পরও অবশ্যই নিজের কষ্ট, বঞ্চনাকে ভুলে সকল অপ্রাপ্তির হতাশাকে পদদলিত করে জনগণের প্রতি মানবিক হতেই মরিয়া।

ঈদ এলে আপনজনরা জানতে চায় ঈদে বাড়ি আসবো কি না? আমার উত্তর দেবার কোনো ভাষা থাকেনা। হয়তো প্রত্যুত্তরে তারাও বলে কত মানুষই তো আসছে। তখন জবাব তো থাকে একটাই থাকে, পুলিশ কি আর মানুষ? প্লিজ পুলিশ সদস্যদের ঈদের ছুটি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে তাদের কষ্টটা না বাড়ানোটাই বুঝি উত্তম।

আমি মনে করি সকল পুলিশ ভাইদের জন্য সবথেকে বড় ঈদ হচ্ছে আপন জনদের সান্নিধ্য পাওয়া। আমার উপলব্ধিগুলো যদি কারো কাছে সামান্য মনে হয় তবে তার জন্য দোয়া করি সেও যেন আমাদের মতো পরিস্থিতিতে পড়ে অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।

মা,বাবা, ভাই-বোনদের ছেড়ে ঈদ করতে করতে, ছুটি বঞ্চিত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ভেতরের মন নদীটা এখন বড়ই শুকনো। সেই মন নদীতে শুধু মাঝখানে ভেসে থাকা এক টুকরো বালুময় ধূ ধূ চর। পানির স্তরটা অনেক নীচে। সহসায় আর নোনা পানিও আসেনা! তবুও আমার সকল বিসর্জনে ভালো থাকুক বাংলাদেশ, ভালো থাকুক প্রিয় পুলিশ বাহিনী।

এই ভঙ্গুর মন নদীর চরেই না হয় আমরা পুলিশ বন্ধুরা চিকচিক করা রুপালি বালি আর সুনীল আকাশে ভাসা সাদা মেঘের ভেলার অন্তহীন ছুটে চলার সাথে নিজেদেরকেও ছোটাই দিগন্তের প্রান্ত ছুঁতে!! সকল পুলিশ ভাই বন্ধু সহ আপনজনহীন ঈদ করা দূরে থাকা মানুষ গুলোর (বিভিন্ন বাহিনী ও প্রবাসী) জন্য শুভকামনা।

ভাবনায় :এম এ মোত্তালেব হোসেন
উপ-পুলিশ পরিদর্শক
পিবিআই।

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর

রংপুরে প্রতিজ্ঞা সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ

শরিফা বেগম শিউলী রংপুর প্রতিনিধি রংপুর মহানগরীতে প্রতিজ্ঞা সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। আজ ( ১৫...
- Advertisement -

সাপাহারে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, থানায় জিডি

সাপাহার(নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহারে সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে কথিত ক্যামেরাম্যান সোহেল রানা (৩৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।এ বিষয়ে সাপাহার থানায় একটি সাধারণ...

চান্দিনায় জাতীয় শোক দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ

আলিফ মাহমুদ কায়সার কুমিল্লা প্রতিনিধি ঃ কুমিল্লার চান্দিনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের...

ইন্দুরকানীতে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

ইন্দুরকানী(পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ ইন্দুরকানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে...

রিলেটেড নিউজ

রংপুরে প্রতিজ্ঞা সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ

শরিফা বেগম শিউলী রংপুর প্রতিনিধি রংপুর মহানগরীতে প্রতিজ্ঞা সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। আজ ( ১৫...

সাপাহারে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, থানায় জিডি

সাপাহার(নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহারে সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে কথিত ক্যামেরাম্যান সোহেল রানা (৩৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।এ বিষয়ে সাপাহার থানায় একটি সাধারণ...

চান্দিনায় জাতীয় শোক দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ

আলিফ মাহমুদ কায়সার কুমিল্লা প্রতিনিধি ঃ কুমিল্লার চান্দিনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের...

ইন্দুরকানীতে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

ইন্দুরকানী(পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ ইন্দুরকানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে...
- Advertisement -