আর নয় যৌতুক…….

লেখিকাঃ ফেরদৌসী

✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️

✍️গরীব বাবার মেয়ে আমি
নেই যে আমার দাম।
লক্ষ লক্ষ টাকা কড়ি
নেই বাবার ইনকাম।

✍️ এই জগতে বাবাই আমার
সবচেয়ে আপন জন,
বাবার মান রাখবো সদয়
করলাম এই পণ।

✍️ অনেক কষ্ট করে আমি
নিলাম উচ্চ শিক্ষা
অন্যায়ের কাছে আপস নয়
নিলাম এই দীক্ষা।

✍️ পাশের গ্ৰামের নান্টু ঘটক
একদিন বাবাকে জানায়,
বড়লোকের একমাত্র ছেলে
বিয়ে করতে চায় আমায়।

✍️ দিনরাত গতর খেটে,
বাবা টাকা জমালো
সেই টাকায় যৌতুক এসে
থাবা বসালো।

✍️ তেমন কিছু চায়না তারা
একটা মোটর গাড়ি
হরেক রকম ফার্নিচারে
সাজাতে হবে বাড়ি।

✍️ চু,চার বড়ি স্বর্ণ হলেই
চায়না কিছুই আর
এসব নাকি নয় যৌতুক
বিয়েতে উপহার।

✍️ এতো টাকা গরীব বাবা
পাবে কোথায়?
মেয়ের সুখের কথা ভেবে
তবুও রাজি হয়ে যায়।

✍️ টাকার কথা ভেবে ভেবে
বাবা থাকে অনিদ্রায়।
দিনরাত এসব ভাবনায়
সময় কেটে যায়।

✍️ শেষ সম্বল এই ভিটে মাটি
একটা পুরনো গাড়ি।
দুইটা হালের‌ বলদ
ছোট্ট এই বাড়ি।

✍️ সবকিছু বিক্রি করেও
সুদে ঋণ নেয়।
তারপরও অনেক চাওয়া
অপূর্ণ থেকে যায়।

✍️ দেখতে দেখতে বিয়ের দিন
ঘনিয়ে এলো।
কাজী সাহেব বিয়ের জন্য
তাড়া দিলো।

✍️ ছেলের বাবা হঠাৎ করে
বসলো এবার বেঁকে।
থামুন মশায়!আগে যৌতুক
বললো সবাইকে ডেকে।

✍️ একহাতে মোর যৌতুক চাই
অন্য হাতে মেয়ে।
নইলে বিয়ে হবে নাকো
মেয়ে যাবেন নিয়ে।

✍️ অনেক দামি ছেলে আমার
দেখতে কি সুন্দর।
অনেক টাকা খরচ করে
হয়েছে ডক্টর।

✍️ তাহার যোগ্য পাত্রী হতে
এইটুকু কোন ছাই।
বিয়ে যদি হতেই হয়
সব দাবি চাই।

✍️ করজোড়ে মেয়ের বাবা
আর্জি জানায়।
সব চাওয়া হয়নি জোগাড়
পরে দিব তায়।

✍️ ছেলের বাবা বড়ই পাশান
মনটা নাহি গলে।
মেয়ের বাবার চোখের পানি
গেলো যে বিফলে।

✍️ সব শুনে কনে এবার
উঠে দাঁড়ায়।
বললো, বাবার দিকে চেয়ে
একি করছো হায়!

✍️ নারী আমরা নই অবলা
তোমার কিসের এত দায়?
বারে বারে কেন তুমি
পড়ছো তাহার পায়?

✍️ ছেলে তাহার অনেক দামি
যৌতুকের ই ধরে
অন্যের ঘরের মেয়ের কাছে
বিক্রি তারা করে।

✍️ মেয়ে মানুষ শিক্ষা দিক্ষায়
অনেক বড় হয়।
জ্ঞান গুনে পুরুষ থেকে
কম কিছু নয়।

✍️ শপথ নিবো এসো সবাই
যৌতুক না দিবো
কারো কাছে তিল ফোঁটা
যৌতুক না নিবো।