ভূমি ব্যবস্থাপনার মান বাজার অর্থনীতির অন্যতম বিমূর্ত নির্দেশক

বিশেষ প্রতিবেদক।।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’-এ (প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১) অর্থনীতিতে ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, “দক্ষতার সাথে বাজার পরিচালনার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে অনুসরণ করা হবে – ‘কার্যকর ভূমি ব্যবস্থা ও প্রশাসন’, ‘২০১৩-এর সংশোধনী সহ শ্রম আইন ২০১০ এর কার্যকর বাস্তবায়ন’, ‘বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ সহ সম্পত্তিতে স্বত্বাধিকার রক্ষা’, এবং ‘প্রবেশের সকল বাধা অপসারণ করে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রেখে মুক্ত বাজার নীতির পরিচালনা নিশ্চিত করে বিপণন নিয়ন্ত্রণমূলক আইন’। ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার মান’ হবে এর বিমূর্ত নির্দেশক”।

উল্লেখ্য প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এ ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার মান’ সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০২০ তারিখে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবে রূপায়ন: বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ শীর্ষক জনঅবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বাংলাদেশের এই দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ এ অনুমোদিত হয়।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, “দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সম্পত্তিতে কার্যকর স্বত্বাধিকারসহ দক্ষ ভূমি বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জমি, ব্যবসায় ও বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদের জন্য সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক হলো সম্পত্তিতে স্বাধিকার”৷

প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটিতে আরও বলা হয়, “সমাজের দ্রুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সর্বদাই শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এজন্য বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের ওপর প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এ জোর দেয়া হয়” ।

“সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে আমূল সংস্কারসাধন থেকে ব্যাপক সুফল মিলবে। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত উন্নয়নের জন্য সুশাসনই হলো প্রেরণার মূল মঞ্চ । প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর কৌশলগত অভিঘাত হবে প্রতিষ্ঠানসমূহের শক্তিবৃদ্ধির ওপর”- পরিকল্পনায় বলা আছে। এজন্য অন্যতম ‘সক্ষমতা বিনির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিষ্ঠান’-এর দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এ।এতে বলা হয়েছে, “প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এর আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগসহ বেসরকারি ও বিরোধ নিষ্পত্তি-কল্পে বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার প্রয়োজন হবে।” এজন্য ২০৪১ অভিমুখে এই অগ্রযাত্রার পথে ভূমি ও নগর প্রশাসনে ২০৩১ পর্যন্ত অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে পরিকল্পনায়।

আরও বলা হয়েছে, “অন্যগুলির ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে ২০৪১ ও তৎপরবর্তী কাল পর্যন্ত। এ প্রচেষ্টা শিথিল করার কোন সুযোগ নেই”।

প্রতিবেশের ভারসাম্যসহ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, সেচ, পানি সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট কৌশলসমূহের সাথে সাথে ভূমি ব্যবস্থাপনাকেও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ মেয়াদে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও দারিদ্র নিরসনের জন্য নীতি বিন্যাসের প্রধান উপাদান হিসেবে ধরা হয়েছে।

কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে অন্যান্য অনেক বিষয়ের সাথে সাথে বেদখলকৃত সরকারি জমি, বিশেষ করে ইতোমধ্যে খাল ও নদীর পাড়ে মাটি ভরাট করে অবৈধ দখলসহ বেহাত হয়ে যাওয়া খাস জমি পুনরুদ্ধার কল্পে কর্মসূচি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কৃষিজমির অনুচিত ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কঠোর আইন প্রবর্তন করা ও কৃষি জমির রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণে ডিজিটায়নের ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, “এটুআই সার্ভিসের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য ই-মিউটেশন সেবা শুরু করা হয়েছে, যাতে নাগরিকরা সহজে এবং ঝামেলা মুক্ত ভাবে ভূমি সেবা পেতে পারেন । তার সাথে আইসিটি ব্যবহার করে ভূমি অধিদপ্তরের কার্যক্রম উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে”। সারা বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ নাগরিক এই সেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এ আরও উল্লেখ করা হয়, “ই-পেনশন, ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা প্রভৃতির মতো অত্যাবশ্যক ই-সরকারি সেবা একীভূত করার জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার (বিএনডিএ), যা ওয়ার্ল্ড সামিট অন দি ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার লাভ করে । “পরিচয়” নামক একটি সার্ভিস শুরু করা হয়েছে যার মাধ্যমে সকল নাগরিক তাঁদের জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই করতে পারেন”।

সরকার বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (বিডিপি ২১০০) দ্বারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যার দূরদর্শী উদ্দিষ্ট হলো কৌশল, নীতি, বিনিয়োগ কর্মসূচি এবং উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুতন্ত্র, ভূমি ও পানির উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ।

উলেখ্য, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর অন্যতম অংশ ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা’কে কার্যকর ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দ্রুত সময়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব, যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণের অন্যতম নিয়ামক।