প্রতি শুক্রবার হাজার লোকের সমাগম ঘটে সিংড়ার তিশিঘালি মাজারে

রাজু আহমেদ। নাটোর।।

হযরত ঘাসি দেওয়ান (রহ) এর মাজার অবস্থিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলের প্রানকেন্দ্র ইটালী ইউনিয়নের তিশিঘালিতে। সেখানে দৃষ্টিনন্দন মাজার শরিফ রয়েছে। অনেক ভক্ত এবং দর্শনার্থীরা সেখানে মানত করতে আসে।
প্রতি শুক্রবার হাজারো মানুষ আসে। স্থানীয় সংসদ এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ভাইয়ের প্রচেষ্টায় দৃষ্টিনন্দন ভবন রয়েছে। তবে মাজার দেখভাল কমিটির কোনো নজরদারি নাই। মাজারের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা নাই। এতে করে রয়েছে ক্ষোভ। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর মেলাসহ মাজার কমিটি ২ দিন আয়ের টাকা পাবে বলে জানা গেছে। অথচ এ মাজারের নিয়ম উল্টো। সরকার বছরে ১ বার যৎসামান্য রাজস্ব পায়, তা মেলার ডাকের সময়। তা দিয়ে মাজারের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য সচেতন মহল মাজারটি ওয়াকফ স্টেটের আওতায় এনে সরকারী ভাবে কমিটি করে মাজারসহ অত্র এলাকার উন্নয়ন জরুরী বলে মনে করছে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের উত্তর পাশে রয়েছে একটি ভঙ্গুর মসজিদ। প্রতি শশুক্রবার মাজার পরিদর্শন এবং মানত করতে আসে শত শশত মানুষ। কিন্তু মসজিদে নামাজ পড়ার স্থান সংকুলন হয় না। সেখানে নামাজ পড়ার জন্য অত্যধূনিক মসজিদ দরকার। দুর দুরান্ত থেকে আগত মানুষ নামাজ পড়তে না পেরে ফিরে চলে যায়। সেখানে একটি টিনের চালে এক সাথে সর্বোচ্চ ২৫/৩০ জন নামাজ পড়তে পারে। তাও বৃষ্টি হলে নামাজ পড়ার অবস্থা থাকে না।
টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে।

জানা যায়, চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে তিশিখালীতে খ্যাতনামা দরবেশ ঘাসি দেওয়ান প্রায় ৪শত বছর আগে তিরোধন হন। তাঁর তিরোধনের পর তার শিষ্য ও ভক্তরা সেখানে মাজার গড়ে তোলেন।ঐ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৪ তারিখে বিশাল এলাকা জুড়ে মেলা বসে। আর উক্ত মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রাম জুড়ে আত্মীয়,স্বজন ও জামাইদের আগমনে উৎসবে পরিনত হয়। এখনও মেলায় হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। মেলায় সব ধরনের মানুষের আগমন ঘটে। রাতভর ভক্তদের আয়োজনে বাউল গানসহ বিভিন্ন গানের আসর বসে।

ইটালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বেলাল খান বলেন, আমি মাজার কমিটির ২ বছর দায়িত্বে থাকাকালীন মাজারের টাকা তছরুপ করতে দেয়নি। মাজারের উত্তর পাশ দিয়ে প্রাচির নির্মান করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেই। তারপর মাজারের টাকায় কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি।

৩ নং ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, চলনবিলের উন্নয়নের রুপকার জননেতা জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি
প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন করে দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বরাদ্দ এবং ব্যক্তিগত ভাবে সহায়তা করে মসজিদ নির্মান করার চিন্তা আমাদের রয়েছে। মাজার কমিটির সহযোগিতা পেলে অনেক পুর্বেই মসজিদ নির্মান করা যেতো।

এদিকে দর্শনার্থীরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন ।