ঝিনাইদহে বিট পুলিশিং প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন পুলিশসুপার

সম্রাট হোসেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ

“বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি” এই শ্লোগান কে সামনে নিয়ে পুলিশের সেবাকে জনগনের নিকট পৌঁছে দেওয়া, সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করা এবং পুলিশের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি থানায় ইউনিয়ন ভিত্তিক বা মেট্রোপলিটন এলাকার ওয়ার্ড ভিত্তিক এক বা একাধিক ইউনিটে ভাগ করে পরিচালিত পুলিশ ব্যবস্থা কে বলা হয় ‘বিট পুলিশিং”। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি বিটের দায়িত্ব প্রদান করে এক বা একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া পুলিশ রেগুলেশন অফ বেঙ্গল, ১৯৪৭এ বিট পুলিশিং এর কথা উল্লেখ আছে।
বর্তমান আইজিপি ড, বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১০সালে তাঁর উদ্যোগে ঢাকা মহানগর এলাকায় বৃহত্তর পরিসরে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হয়। পুলিশি সেবাকে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে বর্তমান ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ জেলা পর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের বেশ কিছু ইউনিট এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সমস্ত জেলার মেট্রোপলিটন এলাকায় বিট পুলিশিং বাস্তবায়িত হলে জনগণ ব্যাপক ভাবে উপকৃত হবে এবং পুলিশ জনগণের আস্থা ও ভরসাস্থলে পরিণত হবে। বর্তমান আইজিপি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নির্দেশনায় ইতোমধ্যে বিট পুলিশিং কার্যক্রম সংক্রান্ত গাইডলাইন তথ্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর 2020 প্রণীত হয়েছে ।
ঝিনাইদহ জেলায় ০৬ টি পৌরসভা ৬৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাকে মোট ৮৬ টি বিটে বিভক্ত করে ইতোমধ্যে কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রতিটি বিটে একজন এসআই বিট অফিসার একজন এএসআই সহকারি অফিসার এবং দুজন কনস্টেবল তাদের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বট অফিসার ও তার টিমের সদস্যগণ বিট এলাকায় বেশিরভাগ সময় অবস্থান করবে। এলাকার অপরাধ দমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিট এলাকায় সংঘটিত অপরাধ বিশেষ করে খুন ডাকাতি ধর্ষিতা নারী নির্যাতন ইত্যাদি সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে অব্যাহত অফিসার ও তার টিমের সদস্যগণ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল ও এলাকার অপরাধীদের তালিকা তৈরি সহ নজরদারি করবে। চোরাকারবারি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মানবপাচারকারী ভূমিদস্যু নারী উদ্যোক্তার জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তি চোর-ডাকাত ছিনতাইকারী ও অভ্যাসগত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করবে। তাদের গতিবিধির উপর নজরদারি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
মূলকথা হলো বিট পুলিশিং ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে এবং দ্রুততার সাথে মানুষ পুলিশের সেবা পাবে। থানার সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিট পুলিশিং কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি স্তরেই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তদারকি করবেন। এতে করে মানুষের মধ্যে অপরাধ ভীতি দূর হবে। মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডও হবে নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ ।
ইতোমধ্যে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন ঝিনাইদহের সচেতন মহল।