ঝিনাইদহের শ্রেষ্ঠ করোনা যোদ্ধা প্রসেনজিৎ পার্থ বিশ্বাস

সম্রাট হোসেন। ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ঝিনাইদহে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করছেন চিকিৎসকরা। সামনের সারিতে থেকে জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। সংক্রমনের বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে সমান তালে কাজ করছেন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সংক্রমনের কথা না ভেবেই প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাযুদ্ধের সামনের সারিতে তার অবস্থান। এমনি এক জন হচ্ছেন ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসক ও করোনা সেলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ পার্থ বিশ্বাস।

প্রানঘাতী সংক্রমক ব্যাধি করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ অনেকেই। অনেক সময় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হলেও মোবাইলে নিয়মিত সেবা দিয়ে চলেছেন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ঝিনাইদহের করোনা আক্রান্ত নিয়ে সবর্শেষ তথ্য নিয়মিতভাবে পরিবেশন করেন তিনি। করোনা ভাইরাস নিয়ে কাজ করেছেন খুব কাছ থেকে। মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

চিকিৎসক প্রসেনজিৎ পার্থ বিশ্বাস বলেন, জেলার ৬টি উপজেলার করোনার সব তথ্য আমাকে রাখতে হয়। করোনায় আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবার সবকিছুই দায়িত্ব নিয়ে করতে হয়। রোগীদের করোনা পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়মিত পরিবেশন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, চাকরি জীবনে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন কখনো হয়নি। পরিবারের কথা চিন্তা না করেই মানুষের সেবাই কাজ করার চেষ্টা করেছি। সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম মহোদয়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা আমাকে অনেক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

করোনা যুদ্ধের সামনের সারির এই যোদ্ধা বলেন, পরিবার থেকে কখনো অসহযোগিতা পাইনি। বরং তাদের অনুপ্রেরণা আমাকে আরো বেশি সাহস যুগিয়েছে। এছাড়াও অন্য কেউ কখনো এমন কোন ব্যবহার করিনি যাতে তিনি মনে কষ্ট পাবেন।

সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন উপকরণ পাচ্ছি।

চিকিৎসক পার্থ বলেন, করোনা উপসর্গে কেউ রাতে মারা গেলে সেই রাতেই ওই বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো এবং সেটি পরীক্ষাগারে প্রেরণ করতে হয়। এটা আসলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। করোনা ভাইরাসের মতো এমন ভাইরাস আগে কখনো আসেনি। সেহেতু এটা নিয়ে কাজ করা একদমই নতুন অভিজ্ঞতা।

একমাত্র সচেতনতাই পারে করোনা ভাইরাসের এই ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করতে। মুখে সবসময় মাস্ক ও সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া এগুলো সবসময় সবার করা উচিৎ বলে মনে করেন করোনা যুদ্ধের এই সম্মুখ যোদ্ধা।