চসিক প্রশাসকের সাথে দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

বিশেষ প্রতিনিধি।।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স থাকাটা ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির পূর্বশর্ত। তাই প্রত্যেকের বৈধ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স থাকা ও এর নবায়ন করা বাঞ্চনীয়।

তিনি আজ সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক কে বি আবদুছ ছত্তার মিলনায়তনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

প্রশাসক খোরশেদ আলম বলেন, ট্রেড লাইসেন্স করা ও নবায়নে অতিরিক্ত আর্থিক গচ্ছার অভিযোগের একমাত্র সমাধান হচ্ছে ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটগুলোতে গিয়ে সুবিধামত তারিখ ও সময়ে চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনে আমার উপস্থিতিতে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করা হবে। এতে বাড়তি খরচ, উৎকোচ ও হয়রানীর কোন সুযোগ থাকবে না। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের পর দোকানের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখার জন্য নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান প্রশাসক। তিনি লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে ঢালাও ভাবে ৩ হাজার টাকা সরকারী ফি নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা অতিরিক্ত বোঝা এবং তা কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের দাবীর প্রেক্ষিতে বলেন, এ ব্যাপারে চসিকের করার কিছুই নেই। কারণ এই ফি অর্থমন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে আমি মনে করি একজন পান-বিড়ি সিগারেটের দোকানদার আর আরেকজন আমদানী-রফতানীকারকের ব্যবসার ধরণের যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।

প্রশাসক জানিয়েছেন, অনেকেই ট্রেড লাইসেন্স করার আগ্রহ হারিয়েছেন। এতে চসিকের আয় সংকুচিত হয়েছে। তাই আমি ব্যবসার ধরণ ও আকার-প্রকৃতি অনুযায়ী ফি নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পত্র (ডি.ও লেটার) দিতে পারি এবং তা বিবেচনার বিষয়টি সরকারের। যদি বিবেচনা করা হয় তা হলে ব্যবসায়ী, সরকার ও চসিক লাভবান হবে। প্রশাসক বাজার ও দোকানের সামনে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। তিনি পাইলট প্রকল্প হিসেবে রিয়াজউদ্দিন বাজার ও ফলমুন্ডিতে চারটি করে বস্তা দেয়ার কথা বলেন। মার্কেট/দোকানের ময়লা-আবর্জনা বস্তায় ভর্তি করে দোকানের সামনে রাখতে হবে।

চসিক সেবকরা এসকল বস্তা নির্দিষ্ট সময়ে এসে নিয়ে যাবে এবং বস্তা ফেরত দিবে। এ প্রকল্প চালু হওয়ার পর বাজারে বা দোকানের সামনে কোন ময়লা দেখা গেলে সাথে সাথে জরিমানা করা হবে।

এ সময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সংগঠনের সভাপতি সালামত আলী, সহ-সভাপতি আবদুর রশিদ আমু, মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ, মো. নাজিম উদ্দিন, মো. ইয়াছিন, মো. হারুন, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল আলম লিটন, অর্থ সম্পাদক মো. সেলিম নুরসহ বিভিন্ন বাজার ও এলাকার দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।