একটি বিশ্বকাপ ট্রফির স্থায়ী মালিক ব্রাজিল

- Advertisement -

ভাবনা এবং লেখা : তূর্য হাসান ।।

১৯৩০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের নাম ছিল জুলে রিমে ট্রফি। তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলেস রিমেট যিনি এই টুর্নামেন্টের প্রস্তাব করেছিলেন তার নামে নাম করন করা হয় । এই কাপটি ১৯৭০ সালে তিনবারের বিজয়ী ব্রাজিলকে (১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০) স্থায়ীভাবে প্রদান করা হয় এবং ফিফা বিশ্বকাপ নামে একটি নতুন ট্রফি প্রতিযোগিতার জন্য রাখা হয়েছিল।

গত ৫০ বছর পুর্বে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের পর জুলে রিমে ট্রফি ব্রাজিলকে স্থায়ী ভাবে প্রদান করা হয়। ৫০ বছর পূর্বে ব্রাজিল যা অর্জন করেছে, পরবর্তী ৫০ বছরে অন্য কোন দল এই সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করে ভেবে দেখেছেন কি..কেন শুধু মাত্র ব্রাজিল স্থায়ীভাবে একটি বিশ্বকাপের মালিক…? যেখানে বিশ্বকাপ জেতার পরে নির্দিষ্ট সময় পর ফিরিয়ে দিতে হলেও “জুলে রিমে” ট্রফি সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের অর্জিত সম্পত্তি হিসেবে স্থায়ী।

আসুন বিষয়টি ভিন্ন চিন্তায় বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, কেন শুধু মাত্র ব্রাজিল এমন সাফল্যে অর্জন করতে পারল কেন অন্য কোন দল নয়!!! সম্পূর্ণ বিষয়টি কি অলৌকিক ঘটনা ! কিংবা মহান সৃষ্টিকর্তার বিশেষ উপহার…?

বিষয়টি নিয়ে ভাবনা শুরু করতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৫০ সালে যখন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের মাত্র নয় বছর, তখন ব্রাজিল উরুগুয়ের বিপক্ষে ১৯৫০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছিল। গোটা ব্রাজিলে নেমে এসেছিলো শোকের ছায়া, বিস্ময়কর ব্যাপার মনে হলেও ঘটনা শুরু এখানেই….!!!!

২০১৪ সালে ফিফা ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পেলে বলেছিলেন, “১৯৫০ বিশ্বকাপ ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে হারের পর আমি প্রথমবারের মতো আমার পিতাকে কাঁদতে দেখেছি, এবং এই কান্না ছিলো সেই পরাজয়ের কারনেই”। আমার (পেলের) এখনো মনে আছে আমি আমার পিতাকে বলেছিলাম: ‘বাবা কাঁদো না, আমি আপনার জন্য একটি বিশ্বকাপ জিতব ’।

১৯৫০ বিশ্বকাপের ৮ বছর পর পেলের বয়স যখন ১৭ তখন পেলে তার বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়। ১৯৫৮ সালে পেলের অসামান্য অবদানের মাধ্যমে ব্রাজিলে ১ম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়।

পেলে তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন “১৯৫৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর আমার প্রথম চিন্তা আমার পরিবার সম্পর্কে ছিল, তারা কি জানতে পেরেছে যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি? জয়ের পর আমি আমার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু কোনও টেলিফোন ছিল না, তাই আমি নিজেই বলতে থাকি, ‘আমার বাবাকে বলতে হবে, আমার বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু আমি কেবল জয়ের পরের দিন একটি আন্তর্জাতিক রেডিও ব্যবহার করে তার সাথে কথা বলতে পেরেছি। তখন তার সাথে কথাগুলি এখনো মনে করতে পারি: ‘ বাবাআপনি আমাকে সুইডিশ রাজার সাথে দেখেছেন? ওভার, এবংআমি রাজার হাত নেড়েছি। ওভার’।

একটি বিশ্বকাপ জয়ের পর হয়ত পেলে একান্তভাবে ভেবেছিলেন, ‘ বাবাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি আসলে কি ছিল…!! তার পিতাকে দেয়া কথাগুলো ছিলো : ‘বাবা কাঁদো না, আমি তোমার জন্য একটি বিশ্বকাপ জিতব ’।… তার পিতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা ভাবতেই পেলে হয়ত বুঝতে পেরেছিলেন ” পিতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়নি”… কেননা ৪ বছর পর ফিফাকে তার অর্জন ফিরিয়ে দিতে হবে আর এটাই নিষ্ঠুর বাস্তবতা কেননা এটাই বাস্তবতা। নির্দিষ্ট সময়ের পর বিশ্বকাপ ফিরিয়ে দেয়ার অর্থ, আমার (পেলের) অর্জন এবং সেই সাথে তার পিতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দুটোই সাময়িক সময়ের জন্য সফলতা পেলেও এখনো স্থায়ীভাবে সফল হয়নি। এমন ভবনা থেকেই হয়ত পেলে বুঝতে পেরেছিলেন তার জন্য এমন অর্জন দরকার যেটা তার জন্য স্থায়ী হবে।

কিভাবে একটি বিশ্বকাপের স্থায়ী মালিক হতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তর ছিলো একটাই..!! “”” জুলেস রিমেটের শর্ত””” জুলে রিমে ট্রফির প্রবর্তক জুলেস রিমেট নিজেই শর্ত রেখেছিলেন যে দল প্রথমবারের মত তিনবার ট্রফিটি জিততে পারবে সেই দলকে চিরতরে জুলে রিমে ট্রফি প্রদান করা হবে।”””

হয়ত পেলে তখন সংকল্প করেছিলেন তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে একটি বিস্বকাপ স্থায়ীভাবে নিজেদের করে বাবাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সফলভাবে সম্পূর্ণ করার।

বাবাকে দেয়া ৮ বছরের নিস্পাপ শিশুর প্রতিশ্রুতি সৃষ্টিকর্তা মেনে নিয়েছিলো। সেই সাথে সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসেবে নতুন করে ভাগ্য লিখতে বসেছিলেন সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টিকর্তার নতুন ভাগ্যলিখনে লেখা ছিলো ছোট্ট শিশু পেলে হয়ে উঠবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি সেই সাথে ১৯৫৮ সালের পর ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালে আবারও জয়লাভ করে টুর্নামেন্টের রেকর্ড স্থাপন করবে এবং ১৯৫০ সালের চূড়ান্ত ক্ষতির পরে বাবার অশ্রুশিক্ত চোখের জলের বদলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণতা পাবে আর সেই কারনেই হয়ত পেলের হাত ধরে ব্রাজিল অর্জন করেছে জুলে রিমে ট্রফি। আর সৃষ্টিকর্তার গত ৫০ বছর পূর্বে ব্রাজিল যা অর্জন করেছে, পরবর্তী ৫০ বছরে অন্য কোন দল এই সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর

বরুড়ায় টিফিনের টাকায় ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’র গাছের চারা রোপণ

আলিফ মাহমুদ কায়সার কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ লাল সবুজের প্রচেষ্টা, সবুজ করবো দেশটা স্লোগানে প্রতি বছর টিফিনের টাকায় ১ লক্ষ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রবিবার বরুড়া উপজেলার...
- Advertisement -

জিসা হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী

জিসা খুব সহজ সরল এবং চরম বিশ্বাস প্রবণ একটি মেয়ে। সবাইকে খুব সহজেই বিশ্বাস করত। আব্দুল্লাহর কোন নির্দিষ্ট পেশা নেই। অনেকটা ভবঘুরে স্বভাবের। জিসাদের...

নীলফামারীতে অল্প ব্যয়ে শষা চাষে লাভবান কৃষক

স্বপ্না আক্তার, রংপুর ব্যুরো প্রধান। নীলফামারীতে অল্প ব্যয়ে শষা চাষে লাভবান হয়েছেন কৃষক সোহরাব আলী। তার এই অল্প ব্যয়ে শষা চাষে সফলতা দেখে শষা চাষে...

সিলেটে ভেজাল পণ্য রাখার দায়ে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রুবেল আহমদ সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর ৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট। এসময় ভেজাল ও মেয়াদোর্ত্তীণ পণ্য রাখার দায়ে এসব...

রিলেটেড নিউজ

বরুড়ায় টিফিনের টাকায় ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’র গাছের চারা রোপণ

আলিফ মাহমুদ কায়সার কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ লাল সবুজের প্রচেষ্টা, সবুজ করবো দেশটা স্লোগানে প্রতি বছর টিফিনের টাকায় ১ লক্ষ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রবিবার বরুড়া উপজেলার...

জিসা হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী

জিসা খুব সহজ সরল এবং চরম বিশ্বাস প্রবণ একটি মেয়ে। সবাইকে খুব সহজেই বিশ্বাস করত। আব্দুল্লাহর কোন নির্দিষ্ট পেশা নেই। অনেকটা ভবঘুরে স্বভাবের। জিসাদের...

নীলফামারীতে অল্প ব্যয়ে শষা চাষে লাভবান কৃষক

স্বপ্না আক্তার, রংপুর ব্যুরো প্রধান। নীলফামারীতে অল্প ব্যয়ে শষা চাষে লাভবান হয়েছেন কৃষক সোহরাব আলী। তার এই অল্প ব্যয়ে শষা চাষে সফলতা দেখে শষা চাষে...

সিলেটে ভেজাল পণ্য রাখার দায়ে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রুবেল আহমদ সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর ৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট। এসময় ভেজাল ও মেয়াদোর্ত্তীণ পণ্য রাখার দায়ে এসব...
- Advertisement -