রাজশাহীতে বাসের ভিতরে হেলপারের গলাকাটা লাশ

লিয়াকত হোসেন রাজশাহীঃ

রাজশাহী মহানগরীতে একটি ফঁাকা বাসে হেলপারের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাসে লাশ থাকার খবর পেয়ে শাহমখদুম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত ব্যক্তির নাম দীপক দাশ মনি (১৯)। নগরীর হাজরাপুকুর ডাবতলা এলাকায় তার বাড়ি। বাবার নাম দিলীপ দাস। মনি বাসের হেলপার ছিলেন। বাসটির নাম আরপি চ্যালেঞ্জার। চার দিন ধরে বাসটি নগরীর খানকা শরীফের মোড় এলাকার লালুর গ্যারেজে আছে।
নিহতের মা বলেন, সুপারভাইজার তার ছেলেকে গাড়িতে ঘুমানোর জন্য রাতে ডাকলে মনি গ্যারেজে চলে যায়। এরপর এই ঘটনা। তবে গ্যারে মালিক লালু বলেন, মনিকে গ্যারেজে আসতে দেখেছেন। সেইসাথে তাকে বাসের দড়জা বন্ধ করে শুয়ে যেতে বলে তিনি বাড়ি চলে যান বলে জানান লালু। দীপকের গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার মালঞ্চি বাগাতিপাড়ার চিবনাপুর গ্রামে। এদিকে সন্তানকে হারিয়ে মা আহাজারী করছেন। সেইসাথে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
এসি মহসিন সাক্ষাৎ কারে বলেন, খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং গলাকাটা লাশ দেখেন। তাকে ধারালো কোন অস্ত্র দিয়ে রাতেই হত্যা করা হয়েছে। তবে এখন কিছু বলা যাচ্ছেনা। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে উর্ধতন কতর্ৃপক্ষ অবগত আছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
নগরীর শাহমখদুম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, চারদিন আগে বাসটি এখানে রাখা হয়। এরপর প্রতি রাতে হেলপার মনি বাসে এসে থাকতেন এবং সকালে ঘুম উঠে চলে যেতেন। বুধবার দিবাগত রাতে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বাসের মালিক-চালক সবাই আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে হত্যার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে থানায় হত্যা মামলা হবে।