বিয়ের পর থেকেই স্বামী আর ননদের চরম নির্যাতনের শিকার এক গৃহবধূ

রিপোর্টার রায়হান। নরসিংদী।।

নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার বাঘাব ইউনিয়নের জয়মঙ্গল গ্রামে নাজিরমাহমুদের বাড়ী নামে খ্যাত এলাকায় তোতা মিয়ার ছেলে ফয়েজ। আসল নাম ফয়সাল। তার সাথে ২০১২ সালে সীমা নামের এক নারীর সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই সে সীমাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতে থাকে। যৌতুকের টাকা দিতে না পারলে তাকে বাড়ী থকে বের করে দিত। অবশেষে বাধ্য হয়ে সীমা তার বাবার বাড়ী থেকে অনেক কষ্ট করে ১০ হাজার ২০ হাজার করে মোট ৭০ টাকা দিতে বাধ্য হয়।

কিন্তু তারপরও কিছুদিন পর সীমার স্বামী ফয়েজ আশেপাশের এলাকায় একটা মহিলার সাথে অবৈধ মেলামেশা করতে যেয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে। সেখানে তাকে বেধে শালিশ বসানো হয়। ঐ শালিসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারপর সে সীমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে শালিসে জরিমানা দিয়ে মুক্ত হয়।

এর কিছুদিন পর সে আবারও সীমার কাছে তার পিতার সম্পত্তি দাবি করে বসে। সীমা তার দাবি মেনে না নিলে সে জেদ করে সীমাকে না জানিয়ে আরেকটা বিয়ে করে বসে। সীমা তার এই বিয়ের প্রতিবাদ করলে সে সীমাকে মারধর করা শুরু করে। সীমা তার মার সহ্য করতে না পেরে বাচার জন্য দৌড়ে আরেক প্রতিবেশির ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু সেখান থেকে সীমাকে তার স্বামী ফয়েজের বড় বোন কোহিনুর সীমাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে বাইরে বের করে নিয়ে আসে। তারপর সীমার স্বামী ফয়েজ সীমাকে ডান্ডা দিয়ে আঘাত করে বাম পা ভেংগে ফেলে। তারপর সীমাকে দুই সন্তান সহ বের করে দেয়। বিগত আটমাস ধরে সে সীমাকে কোন ভরনপোষণ দিচ্ছেনা। তার বাড়ীতে তার ব্যাপারে বিচার দিলে তার চাচা বাসেদ সুবিচার না করে বরং তার ভাতিজা ফয়েজের পক্ষ সমর্থন করে। একান্ত স্বাক্ষাৎকারে সীমা বলেছেন-
আমার পক্ষে ফয়েজের মত জানোয়ারের সাথে সংসার করা সম্ভব নয়। আমি আটমাস ধরে আমার ভাংগা পা এবং দুই সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছি। আমি তার বিচার চাই। তার চাচা বাসেদ তার বোন কোহিনুরের বিচার চাই। আমার আটমাসের ভরণপোষণের টাকা ফেরত চাই। আমার দুই মেয়ের ভরনপোষণের টাকা চাই। আমার যৌতুকের ৭০ হাজার টাকা ফেরত চাই। আমার কাছ থেকে ধার নেয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত চাই। আমার কাবিনের আড়াই লাখ টাকা ফেরত চাই।”
উল্লেখ্য ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সীমা ইতিমধ্যে ব্লাস্টে অভিযোগ করেছেন।