ডিমলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম

স্বপ্না আক্তার। রংপুর ব্যুরো প্রধান।।

সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাস এর বিরুদ্ধে। বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এসব মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করে বলা হয়- বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিজেদের পছন্দ মতো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে স্কুলে স্থাপন করবে। কিন্তু শিক্ষা অফিসার এর দেখানো নির্দিষ্ট ব্যক্তি হাসিম উল ফারুক ডলার (প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্ব ) এর নিকট থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন ৷

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্লিপের ফান্ড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাজার যাচাই করে মেশিন ক্রয়ের কথা থাকলেও উপোজলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) হাসিম উল ফারুক ডলার এর নিকট থেকে সংগ্রহ করেন। এসব মেশিনের বাজারদর জানা নেই শিক্ষকদের। এছাড়াও সুযোগ মেলেনি দরদাম করার।

ফলে শিক্ষা অফিসার এর মনোনীত ব্যক্তির নিকট থেকে মেশিন সংগ্রহ করে তাকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীতে ঐ মনোনিত ব্যাক্তির পরিচিত টেকনিসিয়ান ‘টিম্মি টিএম-৫২ মডেলের’ ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি বিদ্যালয়ে গিয়ে লাগিয়ে আসেন বলে জানান অনেকে। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায় এ মডেলের মেশিনটির বাজার মূল্য আনুষঙ্গিক খরচসহ ৯ হাজার থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতিটি মেশিন ক্রয়ে ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন লাগানোর কাজ শুরু হয় । ইতোমধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালু হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনো চালু হয়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমাদের, আরেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিম উল ফারুক ডলার এর নিকট থেকে ১৬ হাজার টাকার বিনিময়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সংগ্রহ করতে বলেছেন । পরে আমরা ঐ ব্যক্তির নিকট ১৬ হাজার টাকা জমা দিয়ে হাজিরা মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলেন, যেহেতু উপর থেকে নির্দেশনা আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। এক প্রকার বাধ্যতামূলকভাবে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি বাজার যাচাই করার সুযোগ থাকতো তাহলে হয়ত কিছু কম দামে মেশিনটি পেতাম। আরঐ বেশি টাকাটা স্কুলের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে পারতাম।
একজন মাল্টিমিডিয়া সেলসম্যান বলেন, ‘টিম্মি টিএম-৫২ মডেলের’ হাজিরা মেশিনের দাম সাড়ে ৮ হাজার টাকা। পাইকারী বা খুচরা যেটাই হোক কেন একই দাম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাসের কাছে এ বিষয়ে জান্তে চাইলে তিনি বলেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য শিক্ষকদের বলেছিলাম , কিন্তু টাকা হেরফের এর ব্যপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি । অথচ হাজিরা মেশিন ক্রয়ের জন্য শিক্ষা অফিসার ১২ হাজার টাকার বিলে স্বাক্ষর করেন। আবার কোন শিক্ষককে হয়রানি ও প্রতারণার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আদায় করে শিক্ষা অফিস ।
হাসিমুল ফারুক ডলারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা ৷বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা ডলার স্যারের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকায় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করেছি ৷
এ ব্যাপারে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বৃন্দ এর একটা সঠিক সুরাহা চান যাতে এই দুর্নীতির ভাগীদার তাদের হতে না হয় ।