উইং কমান্ডার বদিউজ্জামান কেলেংকারি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বিমান বাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন আনুমানিক ২০০৪ সালে। আসলেই কি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছিলেন নাকি তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তাকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছিল সেটা এখনো জানা যায়নি। নিজের সম্পর্কে সকল বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ধারনা পোষন করা আর অপরকে সবসময় তাচ্ছিল্য করাই তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। কথা বলার সময় কখনোই অপরকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফা ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে শ্রোতাকে অতিষ্ট করে তোলার কারনে কেউ তার সাথে কথাও বলতে চায়না। অবসর নেয়ার পর মিরপুর ডি.ইউ.ও.এইচ.এস- এ পেয়েছিলেন একটি প্লট। সেটা ডেভেলপারকে এপার্টমেন্ট করার জন্য দিয়ে বিনিময়ে এপার্টমেন্টের বহু ফ্ল্যাটের মালিকানা পেয়ে সেগুলো চড়া দামে বিক্রয় করে তার ছোট ভাই নাসিম এর অরবিট নামের বিখ্যাত ব্যাগের কোম্পানিতে অলিখিতভাবে বিনিয়োগ করেছিলেন আট কোটি টাকা। যেহেতু এই টাকা বিনিয়োগের কোন লিখিত প্রমান নেই তাই এই টাকা ফেরত না পেলে তিনি আইনগত কোন পদক্ষেপই নিতে পারবেন না। তার সন্তানের সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি লিখিত ষ্ট্যাম্প পেপারে বিশ্বাসী নন। অপরকে সহযোগিতার নামে টাকা ধার দিয়ে যখন তখন গোলামি করানোই তার নেশা। ঘরের ভেতর তার দাপটে পরিবারের কোন সদস্য টু শব্দটিও করতে পারেনা। কথায় কথায় অপরকে কথার প্যাঁচে ফেলে পরাস্থ করার মনমানসিকতার কারনে সবাই তাকে এঁড়িয়ে চলে। কখনো নিজের সন্তানের নামে মামলা করার পরিক্ল্পনা করেন কখনো ছেলের বউকে পতিতা বলে অপবাদ দেন আবার কখনো নিজের ছেলেকে জারজ বলে নিজের স্ত্রীকে পতিতা ভেবে বসেন। তিনি এসব কেন করছেন তার জবাব নেই কারও কাছেই। এটা কি তার মানসিক বিকৃতি নাকি উদ্দেশ্যমূলক কোন সূক্ষ পরিকল্পনা তাও বোঝার উপায় নেই। শুধু তাই নয় তিনি কাবিনের মাধ্যমে বিবাহ বিশ্বাস করেন না। তিনি মনে করেন কালেমা উচ্চারন করে তিনবার কবুল বললেই বিবাহ হয়ে যায় আর রাগের বশে তিনবার মুখে তালাক বললেই বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। একজন বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার হয়ে এমন মান্ধাতার আমলের চিন্তা ভাবনা তার মাথায় কেন আসে সেটা জানার জন্য খোঁজ নিলে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসলে তিনি এসব ভ্রান্ত মতবাদ দিয়ে গ্রামের সহজ সরল মহিলাদের তার বিছানার সঙ্গী বানিয়ে রাখেন। আবার খাহেশ মিটে গেলে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেন। সহজ সরল মহিলারা বুঝতেই পারেনা যে স্বামী ভেবে যাকে তারা সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছে তার চোখে তিনি একটা ভোগের সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নন। প্রথম স্ত্রী সোনালীকে মুখে মুখে তালাক দিয়েছেন ১৫ বছর আগে। অথচ কাগজে কলমে কোন ডিভোর্স হয়নি। তার এরূপ স্বেচ্ছাচারিতা সারটিজীবন ধরে সহ্য করে যাচ্ছে তার পরিবার এবং আত্মীয়স্বন সবাই। প্রথম স্ত্রীকে মৌখিক তালাক দেয়ার পর তিনি বহু মহিলাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নিজের কাছে রেখেছেন আবার প্রয়োজন ফুরালে তাঁড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে লিপি, সালমা, জেসমিন, রেখা, আকলিমা নামের মহিলাদের সম্পর্কে জানা গেছে। তবে লিপি মারা গেছে। এছাড়া বাকি চারজনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে তার সম্পর্কে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বক্তব্য অনুসারে জানা যায় কারো সাথেই তার বিয়ের কোন কাবিন হয়নি। কেবল এলাকার স্বাক্ষী রয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি এমনও কিছু বিয়ে করেছেন যেখানে তিনি নিজেই পাত্র আবার নিজেই কাজী। এরকম নজিরবিহীন বিবাহ আর কোথাও দেখা যায়না। এটা কি আদৌ বিবাহ নাকি বিবাহের নামে প্রতারণা করে নারী ধর্ষন তাও বলা মুশকিল। কিছুদিন আগে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সালমা নামের এক মহিলার সাথে তাদের গ্রামের বাড়ী গৌরনদী থানার সরিল গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে সালমা’র সাথে তার বিয়ের প্রমান দিতে না পারলে এলাকাবাসীরা তাকে জুতাপেটা করে বিতাড়িত করেন। এসময় সালমা তার মোবাইল বন্ধ রেখে পলাতক ছিল। এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি একা সালমাকে ছাড়াই মিরপুরের বাসায় চলে আসেন। তার কিছুদিন পর সালমা তার বাসায় চলে আসে। সালমা এখন তার সাথেই বসবাস করছে। সালমা ছাড়া জেসমিন ও আকলিমার সাথে আলাদা আলাদা মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় আকলিমা কখনো অভিযোগ করছেন আবার কখনো অভিযোগ তুলে নিচ্ছেন। এটা কি হুমকিবশত কোন কারনে নাকি মানহানির ভয়ে সেটা জানা যায়নি। কিন্তু এদিকে তার অপর স্ত্রী জেসমিন একদম সুস্পষ্টভাবে তার সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে বরিশালের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর ব্লাস্টে অভিযোগ করবেন বলে ব্যাক্ত করেছেন। তিনি বলেন বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি শারীরিক মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হন। তারপর তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি ভরনপোষণ চাইলে তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করা হয়।

উইং কমান্ডার বদিউজ্জামান এর বয়স ৬৬ বছর। তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। তারা সকলেই বিবাহিত।

এই বয়সেও তিনি আরও বিয়ে করার নামে মহিলা ধর্ষন করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। তার নির্বাচিত পাত্রীগন সাধারণত গ্রামের সহজ সরল মহিলারা হয়ে থাকেন। যারা আইনগত পদক্ষেপ নিতে জানেনা তারাই তার ভোগের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকে। ‘হিরু’ নামের একজনের পুত্র ‘পলাশ’ নামের এক ব্যাক্তিই তার জন্য এসব মহিলাদের সন্ধান করে নিয়ে আসে।

তিনি কোন স্ত্রীদেরই সন্তান নিতে দেননা। ফলে যখন তখন কথায় কথায় তালাক দিয়ে বিতারিত করতেও তার অসুবিধা হয়না। এদিকে বিয়ের কাবিন না থাকায় তার বিতারিত স্ত্রীগন আইনগত কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন না। সামাজিক মানসম্মানহানি হবার ভয়ে বহু মহিলাগন তার ভোগের পাত্র হয়েও লজ্জায় মুখ খুলছেননা। এব্যাপারে তার সন্তানদের মতামত জানতে চাইলে তারা জানায়- কয়দিন আর বাঁচবে? যা খুশি করুক। মৃত্যুর পর আমরা সম্পত্তির মালিকানা পেলেই হল। কিন্তু মৃত্যুর পর যদি সকল স্ত্রীগন তাদের প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ নিতে আসে তখন কি হবে একথা জানতে চাইলে দ্বিধায় পড়ে যান তারা। যদিও এখন তাদের কাবিন নেই তবে যদি কাবিননামা আদায় করার জন্য সবাই আইনের আশ্রয় নেয় তখন কি হবে সেই আশংকায় আছেন তারা। তাছাড়া বিনা প্রমানে অরবিট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা আট কোটি টাকা ফেরত পাবেন কিনা সেটাই এখন তাদের আসল চিন্তার বিষয়।