করোনা বিজয়ী গণমাধ্যমকর্মী ফেনীর নাছিরের অভিজ্ঞতা

ডেস্ক রিপোর্টঃ
কিভাবে বুঝবেন আপনি করোনায় আক্রান্ত?
করোনা আক্রান্ত রোগীর কিছু সিনটম আছে যার মাধ্যমে মানবদেহে করোনা ভাইরাসে উপস্থিতি প্রকাশ পায়। তার আগে কিছু সিনটম আছে যেমন গলা ব্যথা করা শরির মেচমেচ করে ব্যথা করা, দুর্বল লাগা কেউ আপনাকে মেরেছে এমন মনে হবে, নাক শুকনো এবং বন্ধ থাকা, মাঝেমধ্যে মাথায় চক্কর মারা, রাতে ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি। দুচার দিন এমন থাকার পর হঠাৎ করে আপনার জ্বর আসবে মোটামুটি একশো দু-তিন ডিগ্রী। শরীর প্রচুর ঘামাতে থাকবে মনে হবে আপনি এই মাএ গোসল করে এসেছেন। মুখের রুচি কমতে থাকবে, নাকে গন্ধ অনুভব কিছুটা কমতে থাকবে, মাথা ব্যথা থাকবে, কারো কারো ক্ষেএে পাতলা পায়খানা হতে পারে। তার পরের দিন চোখ নাক চুলকাতে পারে গলা ব্যথার সাথে পুলে যেতে পারে ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে আপনি বুঝে নিবেন আপনি কভিড আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্ত হলে কি করবেন?
প্রথম বিষয় হলো মনোবল হারানো যাবেনা। মনোবল হারালে ঔষধ আপনার শরিরে কাজ করবেনা। মনে রাখবেন, যতো দ্রুত সময়ে মধ্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন ততোই আপনার জন্য মঙ্গল। জ্বর আসার সাথে সাথে প্যরাসিটেমল ৫০০ খেয়ে নিবেন এবং সাথে সাথে পরিবারে অন্যদের থেকে আলেদা হয়ে আলেদা বার্থ রুম আছে এমন রুমে চলে যাবেন । পানির পিপাসা হলে কুসুম গরম পানি পান করবেন। গরম পানির সাথে হালকা লবন দিয়ে দু‘ঘণ্টা পর পর গলগলা করুন। আদা লিটার পানিতে আদা, লেবু, দারুচিনি, লং, গোল মরিচ, তেজ পাতা, দুই কোয়া রসুন দিয়ে পানি গরম করে তার তেজস্ক্রিয়া নিতে থাকুন তাহলে আপনার ফুসফুস পরিষ্কার থাকবে আর তরল স্লেস জমা হতে দিবেনা, জমলেও কাশির সাথে বেরিয়ে আসবে। আর আপনার শ্বাস কষ্টের ঝুঁকি কমবে। কারন করোনা জীবানু সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত করে ফুসফুস এবং সেখানে তরল পদার্থ তৈরী করে শ্বাস চলাচলের পথ বন্ধ করে শরিরে অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটালে প্রান নাশের কারন হয়। তাই গরম পানির তেজস্ক্রিয়া দ্বারা ফুসফুসে অক্সিজেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এই সবের সাথে মেনথল অথবা হামদর্দ এর কুলজুম ড্রপ চার ফোটা দিয়ে বাষ্প নিলে মুহুর্তে শ্বাসনালী এবং ফুসফুস পরিষ্কার হয়ে যায়। এবং ক্ষতিকর তরল পদার্থ জমা থেকে রক্ষা করে। দিনে কম করে চার বার গরম পানির বাস্প নিতে থাকুন, মিনিমাম পাঁচ মিনিট বেশি যতটা আপনার সম্ভব। খেয়াল রাখবেন বাস্প নিতে গিয়ে চোখে মুখে অতিরিক্ত গরম চেকা লেগে পুডে না যায়, অথাৎ নিরাপদ স্থানে মুখ রেখে বাস্প নিতে হবে। কখনো মুখ দিয়ে কখনো নাক দিয়ে বাস্প নিতে থাকুন। বেশি বেশি কুসুম গরম পানি পান করুন। দৈনিক চার বার রং চা পান করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করোনা টেষ্ট করাতে ভুলবেননা। কারন আপনার অবস্থার অবনতি হলে চিকৎসক যেন তড়িৎ চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন, যদিও করোনার চিকিৎসা এখনো নেই, তবুও করোনা রোগীর উপর চিকিৎসকরা নিমুনিয়ার ঔষধ প্রয়োগ করে বেশির ভাগ রোগীকে সুস্থ্য করে তুলছেন। শুধুমাএ প্যরাসিটেমল খেলও তিনদিন পর শরিরে জ্বর থাকেনা তাপমাত্রা কমে যায়, চতুর্থ দিন থেকে শরিরের ভেতরে উত্তাপ থাকে তবে তাপমাত্রা ৯৮ থেকে ১০০ডিগ্রির মোধ্য থাকে। এই সময়টা অত্যান্ত ভয়ংকর তখন ভাইরাস ফুসফুসকে আক্রান্ত করতে থাকে। তখন শ্বাস কষ্ট অথবা বুকে চাপ অনুভুতি হয়। বলে রাখা ভালো আপনি কভিড আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে একটি থার্মোমিটার ও একটি অক্সো মিটার কিনে বাসায় রাখবেন। শ্বাস কষ্ট অনুভব হলে অক্সো মিটার দিয়ে আপনার শরিরে অক্সিজেনের লেভেল মেপে দেখুন, নরমাল মার্জিন ৯৫ এর কম হলে বুঝতে হবে আপনি ঝুকিতে আছেন, তখন আপনাকে অতিদ্রুত অক্সিজেন নিতেই হবে। দেরী করলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়বে। আর জ্বর ১০০ এর উপরে হলে সাভোসিটার ব্যবহার করুন। করোনা টেষ্টের ফলাফল পজেটিভ আসলেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখুন। রুমের মোধ্য পায়ছারী করুন, হাত পা নাড়িয়ে ফ্রি এক্সসাইজ করুন, সারাক্ষণ বসে থাকবেননা।

যেসব উপসর্গ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়:-
করোনায় দুধরনের উপসর্গ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়। ১ শ্বাসকষ্ট ২ শরিরে এ্যমিনীনির অভাব। আগেই বলেছি শ্বাসকষ্ট জনিত কারনে শরিরে অক্সিজেনের মাএা কমে গেলে যথা সময়ে অক্সিজেন দেওয়া নাগেলে রোগীর মৃত্যু হয়। এজন্য অক্সিজেন মাএা স্বাভাবিক রাখার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, অক্সিজেনের অভাবে বেশিরভাগ রোগী মারা যায়। দ্বিতীয়তো এ্যমিনীটির অভাব, এটি হল আপনার শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আপনার শরিরে এ্যমিনীটির নির্ভর করবে আপনার উপর করোনা বিজয় হবে নাকি আপনি করোনার উপর বিজয় হবেন। এজন্য এইসময় শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রচুর পরিমান শাক সবজি, ভিটামিন সি যুক্ত ফলমুল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে । নাহয় শরির দুর্ভল হয়ে মৃত্যুর কারন হতে পারে। এই এ্যমিনীটি কারো শরিরে বেশি কারো শরিরে কম, যাদের কম তাদের ঝুঁকি বেশি।

খাদ্য তালিকায় কি কি যোগ করবেন?
আমি যখন আক্রান্ত হয়ে ছিলাম দুর্ভলতার কারনে প্রায় চারবার মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। আমার দুর্ভলতার কথা চিকিৎসকে জানালে তিনি আমাকে খানাপিনা বেশি করতে বলতেন। আমি বেশি খেয়েও শক্তি পেতাম না। উপায় নাদেখে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এমন বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করি এবং পরামর্শ নিয়ে আমি আমার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যোগ করি মালটা ২.৫০০কেজি, আম ২.৫০০ কেজি, আনারস ২টা, পেয়ারা ২কেজি, খেজুর ১৪টি, কিচকিচ ১০০গ্রাম, আনার ৩টা, আপেল ১কেজি, দুধ ২ লিটার, ডিম ১২টি দুটি কুসুমসহ ১০টির সাদাঅংশ, হরলিক্স দুদিনে বড় একটা, চিকেন সুপ ১০টি , মুরগীর বাচ্চা দুটির ব্লেন্ডার করে সুপ, ভাতের মাড় আদা লিটারের চেয়ে একটু কম, রুটি চারটা, মধু , কালো জিরা, রসুনের আচার, লেবুর রস ইত্যাদি। একদিনে এতো খাবারের কথা শুনে কি চমকে উঠলেন? সত্যিই এটি আমার দৈনিক খাদ্যর তালিকায় ছিল। জেনে রাখবেন লেবু চায়ের সাথে সামান্য পরিমানে পান করবেন, বেশি লেবু পান আপনার হিতে বিপরীত হবে, লেবু আপনার এ্যমিনীটি কমিয়ে দিবে, পেশার ডাউন করে দিবে। লেবুর বিকল্প মালটা বেশি করে খেতে থাকুন, তাহলে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পুরন হবে। মনে রাখবেন করোনা রোগীকে একাধারে বেশিক্ষণ ঘুমাতে দেবেন না। এতে করে শরীর দুর্বল হয়ে বিপদ ঘটায়।